জেলার সবচেয়ে বড় আসন দিনাজপুর-৬। ঘোড়াঘাট,হাকিমপুর,নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর এই ৪ উপজেলা নিয়ে দিনাজপুর -৬ সংসদীয় আসন গঠিত। দক্ষিন দিনাজপুরের এই ৪টি উপজেলা বরাবরের মতই অবহেলিত উপেক্ষিত। সরকার আসে সরকার যায়,ভোটের আগে উন্নয়নের ফুলঝুড়িতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা। কিন্তু ভাগ্যের চাকা আর ঘোরে না। সীমান্তঘেষা সম্ভাবনাময় এই জনপদ আজও শিল্পায়ন,কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়ন থেকে সবসময় বঞ্চিত হয়ে আছে। নির্বাচনের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও ভোট শেষ হলেই জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি কমে যায়। হরহামেশা এমনই অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের দখলে ছিলো এই আসন। ১০বছর জামায়াতে ইসলামীর নিয়ন্ত্রনে ছিল এই আসন,একবার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীর দখলে। প্রায় তিন দশক রাজনৈতিক শাসনামলে বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার দৃশ্যমান খুবই সিমিত বলে মনে করেন স্থানীয় জনসাধারন। সিমান্ত বানিজ্য,কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থান সম্ভাবনা থাকলেও দিনাজপুর -৬ আসনে গড়ে উঠেনি উল্লেখযোগ্য কোন শিল্প-কলকারখানা। হিলি দেশের অন্যতম বৃহত স্থল বন্দর হলেও সেটিকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন বা স্থানীয় অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেনি। ফলে এর সুফল সাধারন মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হয়নি। এবারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দুইটি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাধী দল (বি,এন,পি)থেকে হেভিওয়েট প্রার্থী বি,এন,পির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মরহুম খালেদা জিয়ার ব্যাক্তিগত চিকিৎসক ডাঃ এ,জেড,এম জাহিদ হোসেন এই আসনে নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষে ভোট কামনা করছেন । অপর দিকে সুসংগঠিত জামায়াতে ইসলামীর মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম দাড়িপাল্লা প্রতিকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারের নজর কাড়ছেন। সে যাই হোক দিনাজপুর-৬ আসনের মানুষ এবার আর কেবল আশ্বাসের রাজনীতি চায় না। দিন বদলের হাওয়ায় মানুষ অনেক সচেতন হয়েছে। তারা চায় উন্নয়ন,নাকি সত্যিকারে জীবনমান বদলাবে সেই দিকেই তাকিয়ে আছে দিনাজপুর -৬ আসনের জনগন। সচেতন মহলের জিঙ্গাসা নাকি ভোটের পরে উন্নয়নের যত প্রতিশ্রুতি আবারও হারিয়ে যাবে নির্বাচনের ভোটের বাক্স্রে।