ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তাঁরা সকলেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী। এ বিজয় দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২৯৯টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৭০টি আসনের তথ্য অনুযায়ী ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এই চারজন হলেন: ঢাকা-৩ আসনের গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মাগুরা-২ আসনের নিতাই রায় চৌধুরী, বান্দরবান আসনের সাচিং প্রু এবং রাঙ্গামাটি আসনের দীপেন দেওয়ান।
ঢাকা-৩ আসনে জয়ী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকার কেরানীগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এলাকা নিয়ে গঠিত আসন থেকে ৯৮,৭৮৫ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহীনুর ইসলাম ৮২,২৩২ ভোট পেয়েছেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।
এদিকে মাগুরা-২ আসনে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বেয়াই। নিতাই রায় চৌধুরী ১,৪৭,৮৯৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ ১,১৭,০১৮ ভোট পেয়েছেন।
বান্দরবান আসনে বিএনপি নেতা সাচিং প্রু ধানের শীষ প্রতীকে ১,৪১,৪৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজা উদ্দীন ২৬,১৬২ ভোট পেয়েছেন। সাচিং প্রু বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
রাঙ্গামাটি আসনে দীপেন দেওয়ান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২,০১,৫৪৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা, যিনি ফুটবল প্রতীকে ৩১,২২২ ভোট পেয়েছেন।
বিএনপির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছয় প্রার্থী মনোনীত করেছিল, যাদের মধ্যে দুজন পরাজিত হয়েছেন। তারা হলেন: বাগেরহাট-১ আসনের কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল এবং বাগেরহাট-৪ আসনের সোমনাথ দে।
এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে একজন করে প্রার্থী দিয়েছিল। তারা দুজনই পরাজিত হয়েছেন। তারা হলেন: খুলনা-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৭৯ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টি দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ৬৭ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১২ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী নির্বাচন করেছেন।