গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টি আসনেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। তবে এই নির্বাচনে নওগাঁ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সামসুজ্জাহা খান প্রায় ৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক এর নিকট। নওগাঁ জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনেই বিএনপি নতুন প্রার্থীদের নমিনেশন দিলেও শুধু নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনেই দল পুরনো মুখ ত্যাগি সিনিয়র নেতা সামসুজ্জাহা খাঁনকে নমিনেশন দেয়। নওগাঁ-২ আসন থেকে ইতিপূর্বে সামসুজ্জাহা খাঁন ৩বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি বিএনপি নওগাঁ জেলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের পুরনো মুখ, ত্যাগি ও সিনিয়র নেতা হিসেবে নির্বাচনে সামসুজ্জাহা খাঁনের বিজয় নিয়ে নেতাকর্মীরা ছিলেন বেশ আশাবাদী। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামসুজ্জাহা খানের পরাজয় নেতাকর্মীদেরকে হতাশ করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সামসুজ্জাহা খানের পরাজয়ের পিছনে নিম্নোক্ত কারণগুলো রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
২৪ গণঅভ্যুঙ্থান পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন ও নতুন মুখের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ বেশি ছিল। নওগাঁর ৫টি সংসদীয় আসনে বিএনপির নতুন মুখ নির্বাচন করলেও একমাত্র সামসুজ্জাহা খাঁন ছিলেন পুরনো মুখ। ঐতিহ্যগত ভাবেই বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জাহা খাঁন কখনও চাননি বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে উঠুক। এ কারণে দলের সম্ভাবনাময় নেতাদের তিনি দুরে সরে দিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম হলেন- সাবেক ছাত্রনেতা আবু তাহের চৌধুরী (মন্টু), সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন, নজিপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বায়েজীদ রায়হান শাহীনসহ আরো অনেকে। দল পরিচালনার ক্ষেত্রে পকেট কমিটি গঠন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্ররোচিত হওয়া, শারিরীক অক্ষমতা ও পারিবারিক বিশেষ করে স্ত্রীর প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ। নির্বাচনের আগ মুহুর্তে বিদ্রোহী প্রার্থী না হলেও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি'র মনোনয়ন প্রত্যাশী খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীর দল থেকে বহিষ্কার হওয়া। যার পিছনে সামসুজ্জাহা খাঁনের কালো হাত রয়েছে বলেই ধরে নিয়েছিল বিএনপির তৃণমুল কর্মী সমর্থকরা। এ কারণে তৃণমুল নেতাকর্মীরা অনেকেই দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। দলের একজন ত্যাগী নেতা হিসাবে পরিচিত পৌর বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ রায়হান শাহীনকে নির্বাচনের সময় দলের সকল কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখা হয়। জানা গেছে, বিএনপি মনোনয়ন প্রদানের পূর্বে মাঠ পর্যায়ে জরিপ করার সময় খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী ও সামসুজ্জাহা খাঁনের চেয়ে স্কোরে অনেক এগিয়ে ছিলেন বায়েজিদ রায়হান শাহিন। তবুও সিনিয়র নেতা হওয়ার কারণে সামসুজ্জাহা খানকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলের জনপ্রিয় নেতা বায়েজিদ রায়হান শাহিন কে এভাবে নির্বাচনের সময় নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার বিষয়টিকে সহজে মেনে নিতে পারেনি স্থানীয় কর্মী সমর্থকরা। এ কারণে তারা নির্বাচনের সময় অনেকেই সামসুজ্জাহা খানের তথা ধানের শীষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। যার প্রভাব পড়ে নির্বাচনের ফলাফলের উপর।
উল্লেখ্য নওগাঁ-২ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক পেয়েছেন ১লক্ষ ৪০ হাজার ৪শত ৪৪ ভোট এবং বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. সামসুজ্জাহা খাঁন পেয়েছেন ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯ শত ৯৪ ভোট। নির্বাচনে সামসুজ্জাহা খাঁন ৬ হাজার ৪শত ৫০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন।