শুরু হচ্ছে রমজান

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখুন

এফএনএস
| আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম | প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখুন

বাংলাদেশে রমজান মাস মানেই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা। প্রতিবছরই দেখা যায়, রোজা শুরুর আগেই লেবু, খেজুর, ছোলা, পেঁয়াজ, মাছ-মাংসসহ ইফতারের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগে যে লেবুর হালি ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৭০-১০০ টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে খেজুর, মাংস, মাছ, শাকসবজি- সবকিছুর দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে সামান্য লেবুর শরবত বা খেজুর খাওয়ার ইচ্ছা তাদের জন্য হয়ে উঠছে বিলাসিতা। অথচ মুসলিমপ্রধান অনেক দেশে রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যে ছাড় দেওয়া হয়, দাম কমানো হয়। আমাদের দেশে ঘটে উল্টোটা- চাহিদা বাড়ার সুযোগে ব্যবসায়ীরা অনৈতিকভাবে দাম বাড়িয়ে দেন। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল সমস্যা হলো নিয়ন্ত্রণহীনতা। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ থাকলেও তা যথেষ্ট নয়। বাজারে কার্যকর নজরদারি নেই, ফলে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমালেও বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। বরং কিছু জাতের খেজুরের দাম আরও বেড়েছে। এখন জরুরি হলো সরকারের সক্রিয় হস্তক্ষেপ। বাজারে নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। রমজান মাসে অতিরিক্ত লাভের প্রবণতা দমন না করলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, রমজান শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি সামাজিক সংহতিরও সময়। এই মাসে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা সমাজে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ায়। তাই সরকার, ব্যবসায়ী ও নাগরিক- সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, যাতে রোজাদাররা শান্তি ও স্বস্তি নিয়ে ইফতার করতে পারেন। রমজানকে উৎসবমুখর ও মানবিক করতে হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি- কারণ প্রতিদিনের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনে অসহনীয় চাপ তৈরি করছে।