জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হোক

এফএনএস
| আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম | প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হোক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে শপথ নেবেন এটি স্পষ্ট। তারা নির্বাচনের আগে যে ইশতেহার প্রকাশ করেছে, তাতে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রতি তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ ভোট দিয়ে নতুন সরকার গঠন করেছে। ইতঃপূর্বে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের গণআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল; কিন্তু পরবর্তী সরকার তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণে ন্যূনতম সফলতা প্রদর্শন করতে পারেনি। নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতাসীন হতে যাচ্ছে, তাদের কাছে সাধারণ মানুষের চাওয়া অনেক ব্যাপক। কাজেই দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারকে প্রথমেই তাদের কৃত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতি জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই সনদে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। নিজ দলের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অজুহাত চলবে না। দেশের অর্থনীতি চরম দুর্দশাগ্রস্ত। বিনিয়োগ নেই। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেকারত্ব আকাশছোঁয়া। লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার ও তাদের পরিবার চোখে অন্ধকার দেখছে। বেকারের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি চরম পর্যায়ে। মাদকসহ নানা অপরাধ সিন্ডিকেট ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষ দিশাহারা। ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতি। দেশ চলছে ধারদেনায়। ব্যাংকিং খাত রীতিমতো ভেঙে পড়েছে। দেশের এমন দুঃসহ পরিস্থিতিতে মানুষ আস্থা রেখেছে বিএনপির ওপর। নির্বাচিত সরকার কি পারবেন প্রায় ডুবন্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলতে? গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের অদূরদর্শী নানা পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতির বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করেছে। এ সময়ে সবচেয়ে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা, যার ফলে গতি হারিয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে না গিয়ে হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন। আস্থার অভাবে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিলেন। ফলে মন্থর হয়ে পড়েছে অর্থনীতির চাকা। তাঁরা অধীর আগ্রহে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন। তাকিয়ে ছিলেন কখন আসবে রাজনৈতিক সরকার। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছে বলা যায়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের সেই বিশ্বাস রক্ষা করতে সক্ষম হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।