দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয় ঘটেছে। আমরা মনে করি, নির্বাচনের এই বিপুল বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক দলের জয় নয়, বরং এটি দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের বিজয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে চারটা ১৩ মিনিটে তিনি শপথ নিয়েছেন। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাকে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং পরে গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর তারেক রহমান শপথ গ্রহণের দুই নথিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ গ্রহণ করার পর শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। তাদেরও শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এমন এক সময়ে সরকার গঠন করছে, যখন দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বড় চাপের মধ্যে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্য বেড়েছে; বিপরীতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি অত্যন্ত শ্লথ। তারেক রহমান নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় তিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে ঠিক করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বিএনপি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে। ইশতেহারে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ও পুনর্বাসনমূলক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং’ কমিশন গঠনের কথা বলেছে। বাংলাদেশের বিভাজিত সমাজকে ঐক্যের পথে নেওয়া, রাজনীতিকে রাজপথ থেকে সংসদে ফেরানো, অর্থনৈতিক সংস্কারসহ যেসব গুরুদায়িত্ব বিএনপি সরকারের ওপর এসে পড়েছে, তা বাস্তবায়িত হতে পারে একটি দক্ষ ও গতিশীল সরকারের নেতৃত্বেই। ফলে মন্ত্রী বাছাইয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সীমিত। বলা হয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভায় বিশেষ চমক থাকবে। অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি থাকবে নতুন-তরুণ মুখও। তবে এই স্বপ্নিল যাত্রার সাফল্য নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর পরমতসহিষ্ণুতা এবং জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার ওপর। দীর্ঘকাল পর দেশে যে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাকে টেকসই করতে হলে সব পক্ষকে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আমরা আশা করি, নবনির্বাচিত সরকার নিশ্চয়ই জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে আইনের শাসন হবে সবার জন্য সমান এবং মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে সর্বোচ্চ।