নির্বাচন শেষ হয়েছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে। এখন নতুন সরকার দায়িত্বে। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তেই তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জ, যা মূলত পুরোনোই। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা গেলেও অর্থনৈতিক সংকট, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি- সব মিলিয়ে রাষ্ট্র এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতি। দীর্ঘদিনের অস্থিরতায় বিনিয়োগ থমকে গেছে, শিল্প-কারখানা উৎপাদন কমেছে, কর্মসংস্থান সংকট তীব্র হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। একইসঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা আস্থা ফিরে পান। দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে হবে এবং জবাবদিহি বাড়াতে হবে। তৃতীয় চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা। নির্বাচনোত্তর সময়ে সহিংসতা বা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তাহীনতা দূর না হলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারও সম্ভব নয়। চতুর্থ চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় ঐক্য। বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতি দেশকে দুর্বল করে। নতুন সরকারকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সংসদকে হতে হবে নীতি প্রণয়নের কার্যকর কেন্দ্র, যেখানে ভিন্নমতকে সম্মান দেওয়া হবে। পঞ্চম চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশকে নতুন করে অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা, রপ্তানি বাজার সমপ্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো জরুরি।