সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের

এফএনএস আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক নীতি বাতিল করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, নতুন শুল্ক ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি ছয় বনাম তিন ভোটে রায় দিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আগের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, প্রেসিডেন্ট এককভাবে কর বা শুল্ক নির্ধারণ করতে পারেন না। এই ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।

রায়ের পরই ট্রাম্প সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। যা মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে শনিবার তিনি জানান, আগে কখনো ব্যবহার হয়নি এমন একটি আইনের অধীনে সেই হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি যে, আজ থেকেই বিশ্বের সব দেশের ওপর আমাদের আরোপ করা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হলো। অনেক দেশ বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছিল।” সুপ্রিম কোর্টের রায়কে তিনি ‘অযৌক্তিক, দুর্বলভাবে লেখা এবং অত্যন্ত আমেরিকাবিরোধী’ বলেও উল্লেখ করেন।


নতুন এই শুল্ক ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ অনুযায়ী আরোপ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এই হার সর্বোচ্চ ১৫০ দিন কার্যকর থাকবে। এরপর তা চালু রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ধারা ব্যবহার করেননি।

এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, ১৫ শতাংশ শুল্ক ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে তা স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০ শতাংশ শুল্ক চুক্তি করেছিল, তাদের জন্যও নতুন সিদ্ধান্ত প্রশ্ন তৈরি করেছে।

জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে মার্কিন ট্রেজারি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্ক ফেরতের দাবিতে এক হাজারের বেশি মামলা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশীয় শিল্প পুনরুজ্জীবন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ট্রাম্প শুল্ক নীতিকে ব্যবহার করে আসছেন। তবে নতুন সিদ্ধান্ত আবারও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে।