সম্রাটকে ২০ বছরের কারাদণ্ড, অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম | প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
সম্রাটকে ২০ বছরের কারাদণ্ড, অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটকে পৃথক দুই ধারায় মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফকির মো. জাহিদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রায়ে বলা হয়েছে, সম্রাটকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একইসঙ্গে মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে তাকে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড কার্যকর হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, দুই ধারার সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে, ফলে তাকে মোট ২০ বছর কারাভোগ করতে হবে। এছাড়া সম্রাটের অর্জিত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্রাট পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। আসামি উপস্থিত না থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি হয়নি।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সম্রাটকে। এরপর তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই বছরের ১২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ করা হয়, সম্রাটের অবৈধ সম্পদ প্রায় ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। পরবর্তী তদন্তে, ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর দাখিল করা অভিযোগপত্রে মোট ২২২ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মামলাটিতে মোট ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ১৭ জুলাই আদালত সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। রায়ের ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার উপস্থিতি হয়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে