পালাল ১২ জন

কাপাসিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া: ২ সদস্য আটক

এফ এম কামাল হোসেন; কাপাসিয়া, গাজীপুর
| আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম | প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
কাপাসিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া: ২ সদস্য আটক
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিতে গিয়ে স্থানীয়দের প্রতিরোধে কিশোর গ্যাংয়ের দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এসময় আরও ১২ জন পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আটককৃতরা। উপজেলার বীরউজলী বাজারে ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত পৌঁনে দশটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়রা কাপাসিয়া সেনা ক্যাম্পে খবর দেন। পরে সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। আটককৃত দু'জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞেসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাতেই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘র-গ্যাং (১৮০ ডিগ্রি)’ নামে একটি কিশোর গ্যাং বীর উজলী বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল শোডাউন দেয়। তাদের হাতে ছিল লাঠিসোঁটা ও ধারালো চাপাতি। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া দিলে দুই সদস্য মোঃ আকিব সিকদার ও মোঃ সিয়াম হাসান রনি দু'টি মোটরসাইকেলসহ ধরা পড়ে। তাদের কাছ থেকে চারটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়। তবে মূল নেতৃত্বসহ আরও ১২ জন চাপাতি নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে তারা জানায়। আটককৃতরা হলেন, আমরাইদ এলাকার মোঃ আকবর সিকদারের ছেলে মোঃ আকিব সিকদার এবং মোঃ জামাল উদ্দিনের ছেলে মোঃ সিয়াম হাসান রনি। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। তাদের দাবি, বারিষাব এলাকার মাহিদ শেখ ‘র-গ্যাং (১৮০ ডিগ্রি)’ পরিচালনা করেন। তার নেতৃত্বেই সেদিনের মহড়া হয়। শুধু তাই নয়, গত তিনদিন ধরে তারা বাজার এলাকার বাদল মিয়ার ছেলে তানজিলকে মারার উদ্দেশ্যে এলাকায় অবস্থান ও মহড়া দিয়ে আসছিল বলেও স্বীকার করেছে। আটককৃতরা আরও দাবি করেছে, বীর উজলী বাজারে ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আব্দুল গফুরের নাতি কাওছারের নেতৃত্বে তারা তানজিল কে মারার জন্য আসে এবং অস্ত্র হাতে মহড়া দেয়। এ বিষয়ে কাওছারকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানান। এছাড়া এলাকায় ‘পুষি গ্রুপ’, ‘ডেঞ্জার গ্রুপ’ ও ‘ডেঞ্জার নোমান’ নামে আরও কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছে আটকরা। এদিকে একাধিক গ্রুপের অস্তিত্বের অভিযোগে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে জনমনে। এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক ( ইন্সপেক্টর তদন্ত) মোঃ জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, আটককৃত দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় আইন শৃঙ্খলা অবনতি সংক্রান্ত কোনো ধরনের অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে কিশোরদের মহড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অশনিসংকেত। তাদের দাবি, দ্রুত মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ঘটনার পর বীরউজলী বাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল জন্মেছে, যে কিশোরদের হাতে অস্ত্র এলো কীভাবে? আর কার ছত্রছায়ায় তারা এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে ? তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে