দোষিদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি স্থানীয় এমপি’র

চাটমোহরে বিএনপি কর্মীদের হাতে জামায়াত নেতা লাঞ্ছিত

এফএনএস (হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা) :
| আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম | প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
চাটমোহরে বিএনপি কর্মীদের হাতে জামায়াত নেতা লাঞ্ছিত

পাবনার চাটমোহরে হাটের দরপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠণের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন চাটমোহর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মওলানা মোঃ হাবিবুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় চাটমোহর থানার এসআই কামরুজ্জামানের সাথে কয়েকজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করছিলেন। এঘটনার পর চাটমোহরের সাড়রা গ্রামে বিকেল ৪টায় জরুরী এক সংবাদ সম্মেলনে পাবনা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আছগার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষিদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অপরদিকে ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষিদের শাস্তির দাবিতে বিকেল ৫টায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন হাটের দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিলো। কয়েকটি হাটের দর সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ওই সকল হাটের দরপত্র যেন কেউ দাখিল করতে না পারে,সে জন্য সকাল থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি)র কার্যালয়ে অবন্থান নেয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠণের নেতা-কর্মীরা। এরমধ্যে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ছাইকোলা হাটের দরপত্র দাখিল করতে আসেন ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মোঃ আশরাফুল ইসলাম। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মওলানা মোঃ হাবিবুর রহমান। ছাইকোলা হাটের দরপত্র নির্দিষ্ট বাক্সে দাখিল করার পরপরই বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপি কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দোতলা থেকে জামায়াতের সেক্রেটারিকে টেনে হেঁচড়ে নিচে নিয়ে যাওয় হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এসময় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। লাঞ্ছিত জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান জানান,হাটের ইজারা বা দরপত্র দাখিলের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমি অন্য একটি কাজে সেখানে গিয়েছিলাম। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন আমার উপর হামলা করে। আমি দোষিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।   উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী জানান,বিষয়টি শুনছি। ঘটনাটি বাইরে হয়েছে। বলতে পারছিনা,কী ঘটেছে।  এ বিষয়ে চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সরোয়ার হোসেন জানান,আমি পাবনাতে আছি। শুনেছি দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এখনো কোন অভিযোগ কেউ করেনি।অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ঘটনার পর পাবনা-৩ আসনের এমপি অধ্যাপক মওলানা মোহাম্মদ আলী আছগার বিকেল ৪ টায় জরুরূ সংবাদ সম্মেলন করেন। চাটমোহরের সাড়রা গ্রামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য বলেন,‘আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।যিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন,তিনি একজন শিক্ষক,জাতি গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষকের সাথে এহেন আচরণ জাতি আশা করেনা।’ তিনি বলেন,‘সরকারি দলের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। সরকারি দলের ভাইদের পক্ষ থেকে এ ধরণের ন্যাক্কারজনক আচরণ কাম্য নয়। যেহেতু ইউএনও অফিসে এ ঘটনা ঘটেছে,সিসি ক্যামেরা আছে,দেখলেই বোঝা যাবে কারা এর সাথে জড়িত। এমপি আলী আজগর বলেন,আমরা বিজয়ী হওয়ার পরও কাউকে হুমকি দিলাম না,ধামকি দিলাম না। প্রশাসনকে বলবো এর একটি সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সংবাদ সম্মেলনে চাটমোহর উপজেলা জামায়াতের আমীর মওলানা মোঃ আব্দুল হামিদ,নায়েবে আমীর তোরাব আলী বিশ্বাস,সেক্রেটারী মওলানা মোঃ হাবিবুর রহমান,ভাঙ্গুড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মওলানা মোঃ মহির উদ্দিন,  চাটমোহর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে