দেশে গ্যাসসংকট দীর্ঘদিন ধরেই জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি করছে। চলতি রমজানে সেই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এক বেলা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, আবার আরেক বেলায় নেই। ইফতারের আগে রান্নার বাড়তি চাপের সময়ও গ্যাস না থাকায় মানুষকে নিরুপায় হয়ে বাইরের খাবারের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোও একই সমস্যায় পড়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সরকারি তথ্য বলছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, অথচ সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৬৫ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিনই ঘাটতি থাকছে ১১৫ কোটি ঘনফুট। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি মেরামতের কারণে সরবরাহ আরও কমে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শুধু কোনো নির্দিষ্ট দিনে নয়, সপ্তাহের সাত দিনই গ্যাসের অনটন লেগেই রয়েছে। এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাজারের অস্থিরতা। রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই ফল, মাংস, মাছ, শাকসবজি- সবকিছুর দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। আড়াই লাখ টন ফল আমদানির পরও দাম কমেনি, বরং কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি শুল্ককে দায়ী করছেন, কিন্তু ক্রেতাদের অভিযোগ- সিন্ডিকেটই মূলত দাম বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। গ্যাস খাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিনিয়োগ করতে হবে। একইসঙ্গে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিতে হবে, যাতে সরবরাহ ঘাটতি কমে। জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করে এটিকে ভোক্তাবান্ধব করতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণেও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমদানি শুল্ক ও ডলারের ওঠানামার প্রভাব কমাতে নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে রমজান মাসে জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারকে অতিরিক্ত নজরদারি চালু করতে হবে। রমজান শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি সামাজিক সংহতির সময়ও। এই মাসে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যর্থতা সমাজে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ায়। তাই গ্যাসসংকট নিরসন ও বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ছাড়া জনদুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে- কারণ প্রতিদিনের অযৌক্তিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনে অসহনীয় চাপ তৈরি করছে।