ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে বিস্ফোরণে অন্তত ১০৮ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় এক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ঘটনাটিকে “বর্বরোচিত কাজ”এবং “আগ্রাসীদের অসংখ্য অপরাধের আরেকটি কালো অধ্যায়”বলে মন্তব্য করেছেন। তবে স্কুলে হামলার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। স্কুলটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত, যা সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সারা দেশে বিমান হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। জেনেভায় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের ওই স্কুলটি আইআরজিসি ঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, স্কুলটি তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
বিবিসি বিস্ফোরণের পরের কিছু ভিডিও যাচাই করেছে, যেখানে একটি ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং আশপাশে আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার শোনা যায়। তবে নিহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রায়ই ইরানে ভিসা না পাওয়ায় তথ্য সংগ্রহে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিদেশে অবস্থানরত এক ইরানি, যিনি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন, লিখেছেন: “এই যুদ্ধের প্রথম শিকার মিনাবের ৪০ মেয়ে, যারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত। এ যুদ্ধ কি সেই যুদ্ধ, যেটাকে আপনারা সমর্থন করছেন?”
অন্যদিকে কেউ কেউ সরাসরি ইরানের শাসনব্যবস্থাকেও দায়ী করেছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সরকার সরাসরি স্কুলকে লক্ষ্য না করলেও মিনাবে শিশুদের মৃত্যুর দায় ইসলামিক রিপাবলিকেরই। আশ্রয়কেন্দ্র নেই, ইন্টারনেট বন্ধ, ফোনলাইন বিচ্ছিন্ন, স্কুল বন্ধের কোনো সতর্কতা নেই-এ অবস্থায় ন্যূনতম পদক্ষেপ হওয়া উচিত ছিল শিশুদের ঘরে রাখা।”
শনিবার জুড়ে ইরানের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রাথমিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
চলমান পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে এবং দেশজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।