কৃষিতে উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে জোড় দিতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ১ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
কৃষিতে উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে জোড় দিতে হবে

দেশের টেকসই অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন সভা-সেমিনার, নীতি আলোচনায় বা গবেষণা প্রবন্ধে এ বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে দেশে প্রবৃদ্ধির হার ভালো হলেও শ্লথ কর্মসংস্থানের অর্থনীতি বলা হচ্ছে। এ কথা প্রায়ই বলা হচ্ছে, দেশে এখন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। গ্রামীণ কৃষি ক্ষেত্রে বেশকিছু উদ্যোগ এরই মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে পণ্য সরবরাহ, আর্থিক লেনদেন, হাঁস-মুরগির খামার, দুধের খামার, নার্সারি, ফুলের চাষ, মাশরুম চাষ, শুঁটকি, গরু মোটাতাজাকরণ ইত্যাদি। তবে তা দেশের সামগ্রিক বাজার চাহিদার তুলনায় এখনো যথেষ্ট অপ্রতুল। কৃষি স্টার্টআপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এসব স্টার্টআপ উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ে সংযোগ, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা সমাধান, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ, পণ্য সরবরাহ, বাজার সৃষ্টি, গবাদি পশু সম্পদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা- এসব কার্যক্রম করে যাচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব আজ জাতীয় উন্নয়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সেই হারে তৈরি হচ্ছে না। এই বাস্তবতায় বেকারত্ব মোকাবেলায় নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত কৃষি-ব্যবসায় স্বনিযুক্তির প্রসার। এটি নতুন সরকারের জন্য হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর নীতি। কারণ, কৃষি এখনো দেশের বৃহত্তম কর্মসংস্থান খাত এবং সঠিক পরিকল্পনায় এটিকে উদ্যোক্তা-নির্ভর শিল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৫-২৯ বছর বয়সী প্রায় ১৯.৪ লাখ যুবক বেকার, যা যুব শ্রমশক্তির প্রায় ৭%। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বেকারদের প্রায় ৭০% গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা। অন্যদিকে সামগ্রিক শ্রমবাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি বছর প্রায় ২০-২৫ লাখ নতুন কর্মী শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত চাকরি সৃষ্টি হচ্ছে না, ফলে যুব বেকারত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি খাতের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ, শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান সীমিত হলেও কৃষি এখনো প্রায় ৪০-৪৫% মানুষের কর্মসংস্থান দেয়, যদিও এর উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক কম। বাংলাদেশে কৃষিকে দীর্ঘদিন শুধু জীবিকা নির্বাহের পেশা হিসেবে দেখা হয়েছে, ব্যবসা হিসেবে নয়। ফলে তরুণরা কৃষি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অথচ, আধুনিক কৃষি-ব্যবসা, যেমন উচ্চমূল্যের ফসল, প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড-চেইন, কৃষি প্রযুক্তি, ই-কমার্স বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। বর্তমানে কৃষিতে শ্রমিক সংকট দেখা যাচ্ছে। কারণ, তরুণরা শহরমুখী হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে কৃষিতে কাজের সুযোগ আছে, কিন্তু তা আকর্ষণীয় নয়। যদি কৃষিকে লাভজনক উদ্যোক্তা-ভিত্তিক খাতে রূপ দেওয়া যায়, তাহলে একইসাথে বেকারত্ব কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।