সিলেট নগরের ছড়ারপার এলাকার বাসিন্দা মৃত সাবু মিয়ার স্ত্রী ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী রুনু বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছেন। সোমবার (২ মার্চ) নগরের সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। রুনু বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাদের জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে তার পরিবারকে সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি নিজেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তার দুই ছেলে রুমেল আহমদ ও রুহেল আহমদ মানসিকভাবে অসুস্থ। বড় ছেলে রুমেলের সন্তান আতাউর রহমান রাহী একজন কলেজ শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে রুহেলের সন্তান এহসান আরাফাত রাফি স্কুলছাত্র। পরিবারটি কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে রুনু বেগম দাবি করেন, প্রায় দুই বছর আগে জায়গা বিরোধের জেরে তার নাতি রাহীকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেইজে তার নাতিকে জড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। সর্বশেষ গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকার চোরাচালান ও কালিঘাট বাজারে ভারতীয় পণ্য বিক্রির সঙ্গে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাহীকে জড়ানো হয়েছে। সেখানে তাকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ও বাজার নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রুনু বেগম বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটিতে আরাফাত আহমদ নামে একজন সাধারণ সম্পাদক দায়িত্বে ছিলেন। তার নাতি কখনো ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে ছিলেন না। একই প্রতিবেদনে মাসুম ও সাদ্দাম নামে দুইজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা স্থানীয়ভাবে শ্রমিক হিসেবে পরিচিত। “আমার কলেজপড়ুয়া নাতি কীভাবে একটি বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে?”-প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়া আরেকটি পেইজে রাহীকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে তিনি জানান, শবে বরাতের আগের দিন বন্দরবাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে এবং পরে ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে মামলার বাদী আব্দুস সালাম টিপু আদালতে লিখিতভাবে জানান, রাহীর বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ নেই। পরবর্তীতে আদালত রাহীকে জামিন প্রদান করেন। সংবাদ সম্মেলনে রুনু বেগম অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে তার পরিবারকে হয়রানি ও মানহানির শিকার করছে। তিনি অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।