ঢাকা শহরে মশার উপদ্রব এখন এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস - এই তিন ধরনেরই মশার বিস্তার নগরবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। কিউলেক্স মশা রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে, এডিস মশা ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়াচ্ছে, আর অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে নগরবাসী একসঙ্গে তিন ধরনের বিপদের মুখে পড়েছে। আমরা মনে করি, মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় এড়ানো যাবে না। সিটি করপোরেশনগুলো নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইড ছিটানোর কথা বললেও বাস্তবে কার্যকারিতা দেখা যায় না। বর্ষাকালে ড্রেন ও জলাশয়ে জমে থাকা পানিতে কিউলেক্স মশার প্রজনন বেড়ে যায়। অপরদিকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন বাড়ির ভেতর ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা। কিন্তু জনসচেতনতার অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতায় এ কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে না। ডেঙ্গু পরিস্থিতি গত কয়েক বছরে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি হিসাবে গত মৌসুমে ডেঙ্গুতে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং শত শত প্রাণহানি ঘটেছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে আসন্ন মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। একই সঙ্গে কিউলেক্স মশার কারণে নগরবাসীর রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সমস্যা। আমাদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশনকে নিয়মিত ও কার্যকর ফগিং নিশ্চিত করতে হবে, ড্রেন ও জলাশয় পরিষ্কার রাখতে হবে, এবং লার্ভিসাইড ব্যবহারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে- বাড়ির ছাদ, বারান্দা বা টবের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দায়বদ্ধতা। অতীতে দেখা গেছে, মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য সিটি করপোরেশন একে অপরকে দায়ী করেছে। এই দায় এড়ানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তার জন্য জবাবদিহি থাকতে হবে। আমরা মনে করি, মশার উপদ্রব শুধু একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নগরবাসীর জীবনযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে হলে মশা নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্র, সিটি করপোরেশন ও নাগরিক সেবার সম্মিলিত উদ্যোগেই এই ত্রিমুখী আক্রমণ থেকে মুক্তি সম্ভব।