মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও জ্বালানি নিরাপত্তা

এফএনএস
| আপডেট: ৪ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম | প্রকাশ: ৪ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও জ্বালানি নিরাপত্তা

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান সংঘাত তীব্র হওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য এটি নতুন উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও রান্নার গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এলএনজি আমদানিনির্ভর। বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন এলএনজি ১১৫টি কার্গোর মাধ্যমে আসে, যার বড় অংশ কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল দিয়ে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। মার্চের বেশির ভাগ কার্গো ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে এসেছে-এটি স্বস্তির খবর। তবে একটি কার্গো বিলম্বিত হলেও সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে, কারণ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে স্বল্পচাপ বিদ্যমান। এলপিজি বাজারের চিত্র আরও নাজুক। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বাস্তবে ১২ কেজি সিলিন্ডার ৪০০-৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সাম্প্রতিক শুল্ক সমন্বয়ের পর দাম সামান্য কমলেও বাজারে তা প্রতিফলিত হয়নি। অতীতে আমদানি কমলেই সংকট তৈরি হয়েছে; যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহও অনিশ্চিত হতে পারে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার বলছে, দেশে ৩০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং বিকল্প নৌপথে এলএনজি কার্গো আনার প্রস্তুতি আছে। মার্চে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেবে। তবে বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, কিছু জ্বালানির মজুত ১২ থেকে ১৯ দিনের মধ্যে সীমিত-এ বাস্তবতা সতর্কবার্তা দেয়। সমুদ্রপথে থাকা চালানগুলো সময়মতো পৌঁছাবে কি না, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। এই প্রেক্ষাপটে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে সরবরাহ উৎস বহুমুখীকরণ-স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক বিকল্প খোঁজা। এছাড়াও কৌশলগত মজুত বাড়ানো এবং সংরক্ষণ সক্ষমতা উন্নত করা। পাশাপাশি এলপিজি বাজারে নজরদারি জোরদার করে অস্বাভাবিক মুনাফা রোধ ও সরবরাহ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি সাশ্রয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো-দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমানোর জন্য এটি অপরিহার্য। জ্বালানি নিরাপত্তা কেবল মজুতের প্রশ্ন নয়; এটি অর্থনীতি, শিল্প ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাৎক্ষণিক আশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু স্থায়ী সমাধান নির্ভর করবে পরিকল্পিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ধারাবাহিকতার ওপর। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা হয়তো বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নয়, কিন্তু প্রস্তুতি ও দূরদর্শিতাই পারে সম্ভাব্য সংকটের অভিঘাত কমিয়ে আনতে।