সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা এবং দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত কর্মকর্তার সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর যাওয়া ও ফেরার সময় বিমানবন্দরে মাত্র চারজন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা জানানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত বিধিমালায় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশযাত্রা এবং দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম একজন মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব উপস্থিত থাকবেন। এর আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল কয়েক গুণ বেশি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিদেশযাত্রা ও ফেরার সময় বিমানবন্দরে রাষ্ট্রাচার সংক্রান্ত যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল, তা এখন বাতিল করা হয়েছে।
ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশ যাত্রা এবং সফর শেষে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের জ্যেষ্ঠতম একজন উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান, স্বাগতিক দেশগুলোর মিশন প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান এবং মুখ্য সচিবের নাম উল্লেখ ছিল।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার প্রধানের উপস্থিতির কথাও ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা ও ফেরার সময় বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা আরও সংক্ষিপ্ত ও সীমিত আকারে অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।