নীলফামারী - ৪ আসন সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা মিলে। এ আসনে রয়েছে ১৪ টি ইউনিয়ন ও একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। দেশ স্বাধিনের পর এই প্রথম জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ থেকে এ আসনে একজন এমপি হলেন। একজন সহজ সরল মানুষ হলেন হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি হাঁটা পথেই চলছেন বেশির ভাগ সময়। তিনি বলেন,আমি ক্ষমতার এমপি হয়ে থাকতে চাই না আমি জনতার এমপি হয়ে সবার সাথে থেকে পাশে থেকে মিলেমিশে কাজ করতে চাই। কারণ ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয় আর জনতা কাছে টেনে নিয়ে আলোর পথ দেখায়। তাই আমি আলোর পথে থেকে সমাজ, দেশ ও মানুষের সেবা করতে চাই। আর এ জন্য সকলের সহযোগিতা আমার বড় প্রয়োজন। আপনাদের ছাড়া আমি মুল্যহীন। নির্বাচনের পর থেকে তিনি শহর ও মহল্লায় হাঁটা পথে চলছেন। সামনে যাকে পাচ্ছেন তাকেই বুকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করছেন। শরীরের সুস্থ্যতা নিয়ে কথা বলছেন। রকশাওয়ালা থেকে শুরু করে গরিব-দুঃখী মেহনতি মানুষ যেন তাঁর পরম আত্নীয়। তাদের সাথে দেখা হলে তাঁর মনে যেন আনন্দের সীমা থাকে না। ধর্ম, বর্ণ,পরিচয় কিঋুই যেন এমপি মহোদয়ের কাছে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় না। বিরাট ক্ষমতার মসনদে বসেও তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার দেখা যায় না। এমপি হওয়ার পর তাঁর সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমি একজন সাধারণ মানুষের সন্তান। যাদের ঘামে, যাদের পরিশ্রমে এই মাটির গন্ধ। আমার কাছে কালো টাকার পাহাড় ছিল না, ছিল না বিশাল নেতাকর্মীর বহর। আমার কাছে ছিল শুধু মানুষের ভালোবাসা। ছিল গরিব, মেহনতি মানুষের নিঃস্বার্থ দোয়া। যেদিন মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে তাদের দায়িত্ব আমার কাঁধে তুলে দিয়েছে, সেদিন থেকেই বুঝেছি এই পদ কোনো ক্ষমতা নয়, এটা এক মহা আমানত। তিনি বলেন,রিকশাওয়ালা হোক, দিনমজুর হোক, কৃষক হোক, সে হিন্দু হোক বা মুসলিম হোক তারা সবার আগে মানুষ, আর আমি তাদেরই একজন। আমি যদি আজ তাদের থেকে দূরে সরে যাই, তাহলে এই চেয়ার, এই পদ সবই অর্থহীন হয়ে যাবে। মানুষের ভালোবাসাই আমার আসল শক্তি। তাদের বুকভরা দোয়াই আমার আসল সম্পদ। ইনশাআল্লাহ, যতদিন দায়িত্বে আছি, ততদিন সাধারণ মানুষের মাঝেই থাকবো। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবো। কারণ আমি ক্ষমতার এমপি নই, আমি জনতার এমপি হয়ে থাকতে চাই।