পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ বন্ধ হোক

এফএনএস
| আপডেট: ৯ মার্চ, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম | প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ বন্ধ হোক

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর সীমান্ত সংঘাত চরম আকার ধারণ করার মধ্যেই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বেশ কিছু শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। হামলায় ২৭০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। আফগানিস্তানও ইতোমধ্যে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। হামলায় ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। হঠাৎ করে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হওয়া দুঃখজনক। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের জন্য তা বেদনার। কারণ, মুসলমান দেশগুলোর মধ্যকার যুদ্ধ ও বিভেদের সুযোগ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ফায়দা হাসিল করে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলাকে প্রশংসা করেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, যুক্তরাষ্ট্র যখন যুদ্ধের প্রশংসা করে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না, এর পেছনে তার স্বার্থ রয়েছে। এই আফগানিস্তান থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে তালেবানদের হাতে চরমভাবে মার খেয়ে যুক্তরাষ্ট্র পালিয়ে যায়। প্রায় বিশ বছর আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র সফল হতে পারেনি। এর আগে রাশিয়াও সুদীর্ঘকাল আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়েছিল। সেও আফগানিস্তানে টিকতে পারেনি। এর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, পাকিস্তানে আফগানদের আসা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করাসহ আফগান যোদ্ধাদের সরাসরি সহযোগিতা করা। আফগানিস্তানকে বিদেশি আগ্রাসন থেকে বের করে আনতে সহযোগিতার এমন কোনো প্রক্রিয়া ও পদক্ষেপ নেই যা নেয়নি। অথচ ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই শত্রুতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ আফগানিস্তান টিটিপিকে আশ্রয় দিয়ে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তা অস্বীকার করলেও টিটিপির সাথে যে তার সম্পর্ক রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আফগানিস্তানের মূল তালেবান গোষ্ঠী ১৯৯৪ সালে দেশটি শাসন শুরু করে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন আগ্রাসনে তাদের পতন ঘটে। ক্ষমতা হারানোর পর তালেবান যোদ্ধারা পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় পালিয়ে যায়। সেখানে ২০০৭ সালে বেশ কিছু জঙ্গিগোষ্ঠী একটি জোট গঠন করে। তারা নিজেদের নাম দেয় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), যা মূলত পাকিস্তান তালেবান হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তান চায়, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ টিটিপির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করুক। গত বছরের অক্টোবরে সীমান্তে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতী হয়। তবে টিটিপি ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধ শুরু করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে। এদিকে পর্যবেক্ষকদের মতে, কারো উসকানিতে পাকিস্তানের পা দেয়া উচিৎ হবে না। বরং যুদ্ধ প্রলম্বিত না করে কীভাবে দ্রুত বন্ধ করা যায়, পাকিস্তানের সেদিক বিবেচনা করা উচিৎ।