নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া বৈধ, লিভ টু আপিল খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া বৈধ, লিভ টু আপিল খারিজ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের চুক্তি প্রক্রিয়া বৈধই থাকল।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে এর আগে হাইকোর্টে দেওয়া রায় বহাল থাকল।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে শুনানি চলছিল। গত ৩০ জুলাই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন। ওই রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ আইন লঙ্ঘন করে দেশীয় অপারেটরদের সুযোগ না দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না।

একই সঙ্গে যে কোনো অপারেটরকে কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার আগে ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে দ্বিধাবিভক্ত রায় হয়। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ওই প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করলেও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রুল খারিজ করে দেন। পরে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়।

এরপর প্রধান বিচারপতি মামলাটি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান। ওই বেঞ্চ গত ২৯ জানুয়ারি রিট খারিজ করে রায় দেন। এর ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট খারিজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন রিটকারী যুব অর্থনীতি ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হাসান। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

শুনানি শেষে আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল খারিজ করে দিলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।

এই টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। সেই প্রক্রিয়া ঘিরেই পরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের সরকারের সময় শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া পরবর্তী সময়েও অগ্রসর হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তে এখন ওই প্রক্রিয়ার বৈধতা বহাল থাকল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে