ঈদের শুভেচ্ছায় নির্বাচনী প্রচার, সৌন্দর্য বিনষ্টে উদ্বেগে প্রশাসন

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ১২ মার্চ, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
ঈদের শুভেচ্ছায় নির্বাচনী প্রচার, সৌন্দর্য বিনষ্টে উদ্বেগে প্রশাসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনো নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের তৎপরতা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে নগরজুড়ে। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা ‘ঈদের শুভেচ্ছা’র ব্যানারে নিজেদের প্রচারণা জোরদার করেছেন। নগরের বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় বড় বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। এতে করে একদিকে যেমন ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে কৌশলে তুলে ধরা হচ্ছে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম ও ছবি। নগরবাসীর একাংশ বলছেন, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ না হলেও আগাম প্রচারণা যেন অঘোষিতভাবে শুরু হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নগরের সৌন্দর্য রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি ঈদ উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট না করার অনুরোধ জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছুটা আলোচনা-সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। কারণ প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নিজেও আগামী সিসিক নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সরকার তাকে সিসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ফলে একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন ও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা-এই বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে স্থানীয় মহলে। নগর ঘুরে দেখা গেছে, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকীর নামে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিলবোর্ড ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। এদের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পাওয়ার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। তৃণমূল নেতাদের মতে, প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে। বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে জামায়াতের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। তাই সিটি নির্বাচনে এমন প্রার্থী দিতে হবে, যিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে হারাতে সক্ষম। অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছেন। কেউ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরছেন, আবার কেউ দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের তারিখ এখনো অনিশ্চিত থাকলেও ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে শুরু হয়ে গেছে আগাম নির্বাচনী প্রচারণা। তবে এতে নগরের সৌন্দর্য রক্ষা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নও সামনে আসছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে