প্রেশার হাই হলে তাৎক্ষণিক কী করবেন?

এফএনএস | প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২২ এএম
প্রেশার হাই হলে তাৎক্ষণিক কী করবেন?

উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় নীরব ঘাতক। কারণ এ রক্তচাপই শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রক্তচাপ অনেক সময় রোগীর প্রাণও কেড়ে নেয়। 


হাই প্রেশার বা হাইপারটেনশন কী?

চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ হলো ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ চাপ। সাধারণত রক্তচাপ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, তাহলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলা হয়।


হাই প্রেশারের লক্ষণসমূহ

প্রেশার হাই হলে আপনার মধ্যে তাৎক্ষণিক কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দেবে। যেমন: মাথা ঘোরানো, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা, স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা ইত্যাদি।


কেন এমন হয়?

মূলত অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন কিংবা ভুল ডায়েটে অনেকেই প্রেশার হাই হওয়ার সমস্যায় ভোগেন। অনেকে আবার দুশ্চিন্তা, অপর্যাপ্ত ঘুম ও বংশগতির কারণেও এ সমস্যায় ভোগেন। এ সময় ঘাবড়ে না গিয়ে বাড়িতেই প্রথমে নিন প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ।

 

প্রেসার হাই হলে করণীয়

প্রেশার হাই হওয়া একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি তখনই ঘটে যখন ধমনিতে রক্তের অত্যধিক চাপ পড়ে। এর ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকিও।


জেনে নিন হঠাৎ প্রেশার আরও বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য তাৎক্ষণিক কী করবেন-

১. হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে শারীরিক চলাচল কমিয়ে দিন। শান্ত থাকুন। পারলে আরামদায়ক কোনো স্থানে বসুন বা এক পাশে শুয়ে পড়ুন। কেননা, এটি রক্তের চাপ কমতে সাহায্য করে।

২. রক্তের চাপ কমাতে খেতে পারেন তেঁতুলের রস। তেঁতুলের রসের পরিবর্তে খেতে পারেন লেবুর পানি।

৩. আপনার খাদ্যতালিকায় আদা রাখুন। আদা একটি সুপারফুড। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও পেশি শিথিল করে।

৪. রক্তচাপ বেড়ে গেলে প্রক্রিয়াজাত ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সেই সঙ্গে চর্বিযুক্ত খাবার, খাবারের লবণ, ধূমপান উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে এমন খাবারও এড়িয়ে চলুন।

৫. এ সময় চিনি, তেল, ঘি, মাখন, লবণ ও রেডমিট একেবারেই খাওয়া যাবে না।

৬. এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করুন। কারণ শরীর সঠিকভাবে হাইড্রেশন থাকলে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে।

৭. দ্রুত রক্তচাপ কমাতে পটাশিয়াম যুক্ত খাবার খান। এজন্য ডায়েটে রাখুন পটাশিয়াম যুক্ত ফল, টক দই। ওজন বেশি থাকলে সেটিও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।