তালতলীতে অস্তিত্ব সংকটে ৭১ খাল, বিপাকে কৃষক

এফএনএস (মোঃ আব্দুল মোতালিব; তালতলী, বরগুনা) : | প্রকাশ: ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
তালতলীতে অস্তিত্ব সংকটে ৭১ খাল, বিপাকে কৃষক

বরগুনার তালতলী উপজেলার কৃষি ব্যবস্থাপনার ৭১ টি প্রবাহিত খাল অস্তিত্ব সংকটে। দখল, দূষণ আর পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুস্ক মৌসুমে তিব্র সেচ সংকট ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি হয়ে পড়েছে চাষের জমি। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, জমিগুলো চাষের আওতায় আনার জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার পায়রা নদী, অন্ধারমানিক নদী এবং বঙ্গোপসাগরের স্রোতে তৈরি হয়েছে শতাধিক শাখা খাল। একসময় এই খালগুলোতেই শীত মৌসুমের জন্য মিঠা পানি সংরক্ষণ করা হতো আর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন হতো। কৃষকদের অভিযোগ, গত ২ যুগ ধরে উপজেলার অন্তত ৭১ টি খাল দখল করেছে দখলদাররা। কোথাও প্রভাবশালীরা নির্মাণ করেছেন পাকা স্থাপনা। আবার কোথাও কোথাও খালগুলোতে পলি জমে ভরাট হয়ে তৈরি হয়েছে সমতল ভূমি। এতে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে বোরো বা রবি শস্য আবাদ করতে পারছেন না। আবার বর্ষা এলে পানি নামার পথ না থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। এর ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। খননের মাধ্যমে এসব খালের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি স্থানীয়দের।

কৃষক মহারাজ মিয়া, হাসান মল্লিক ও ইসমাইল মৃধা বলেন, 'আগে শীতকালে এই খালগুলো দিয়াই আমরা বোরো ধান আর তরমুজ চাষ করতাম। এহন খাল আছে নামে, কামে নাই। চারদিকে শুধু মাটি আর সবুজ ঘাস। পানি না থাকায় বিঘার পর বিঘা জমি অনাবাদি পইড়া থাকে। অন্যদিকে, বর্ষা কালে একটু বৃষ্টি হইলেই তলাইয়া যায় সব। খালের মুখ দখল কইরা পাকা ঘর তুলছে প্রভাবশালীরা, পানি নামার কোনো পথ নাই। আমাগো ঘাম ঝরানো ফসল পানির তলে পইচা যায়। সরকারের কাছে আকুল আবেদন-এই খালগুলো যেন দ্রুত পুনঃ খননের ব্যবস্থা করেন।'

তালতলী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খনন যোগ্য খালের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দ্রুত এসব খাল দখলমুক্ত করে পুনঃ খননের মাধ্যমে প্রাণ ফিরিয়ে আনা হবে। কৃষককের মুখে হাসি ফোটাতে দ্রুত খালগুলো খনন ও দখলমুক্ত করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে