দেশের অন্যান্য শহর ও ঢাকায় মশার তীব্র উপদ্রবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি, জলাবদ্ধতা ও গরম আবহাওয়ার কারণে মশার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ দিনরাত মশার কামড়ের হাত থেকে কোনোভাবেই মুক্তি পাচ্ছে না। মশার কামড় থেকে বিভিন্ন রকমের রোগ হতে পারে। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, টুলারোমিয়া, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস, বার্মা ফরেস্ট ফিভারের মতো রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। শহরের ঘরবাড়ি, রোড ও আবাসিক এলাকার প্রতিটি জায়গায় মশার ঘনত্ব বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, পল্লবী, রমনা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, মগবাজার, ইস্কাটন, রাজাবাজার, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মশার উপদ্রব প্রবল আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ না কমে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। দিন দিন রোগের ভাইরাস আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। গত কয়েক বছর অব্যাহতভাবে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঘটে চললেও সেদিকে তেমন কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে এ বছর মৌসুমের আগে আগে সেটা প্রকট হয়ে উঠেছে। নজর না দেওয়ায় এ বছর ডেঙ্গুর প্রভাব আরও মারাত্মক হয়ে উঠেছে। যারা এখন আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের মধ্যে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাই বেশি। সামপ্রতিক সময়ে মশার ঘনত্ব এতটাই বেড়েছে যে, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং নিচু জলাশয় সংলগ্ন জনপদগুলোতে মশার আক্রমণ সবচেয়ে বেশি। মশার যন্ত্রণায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না, কর্মজীবী মানুষের বিশ্রামে বিঘ্ন ঘটছে এবং শিশুরা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মশা মারতে ব্যবহৃত কয়েল বা অ্যারোসলের অতিরিক্ত ব্যবহার আবার শ্বাসকষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। অর্থাৎ, মশা একদিকে কামড় দিয়ে রোগ ছড়াচ্ছে, অন্যদিকে তা থেকে বাঁচতে গিয়ে মানুষ অন্য স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা আর প্রশাসনিক গাফিলতির যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে নগরবাসী। এ বছর শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল এবং স্বাভাবিক সময়ের আগেই শীত বিদায় নেয়। ফলে উষ্ণ আবহাওয়ার এই আগাম আগমন মশার বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। এর সঙ্গে নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে দুর্বল তদারকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নতুন রাজনৈতিক প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ায় আশা করা যায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ওয়ার্ড কাউন্সিলর না থাকায় সমন্বয় ও তদারকিতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এখন নগরে মশার বিস্তার রোধ করতে দ্রুত ড্রেন, নর্দমা এবং ডোবাগুলো পরিষ্কার করা ছাড়া বিকল্প নেই। এসব কাজ ছাড়া নগরে মশার ভয়াবহ উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।