তিন অধ্যাদেশ বাতিল, আগের নিয়মেই ফিরছে বিচারক নিয়োগ ও বিচার বিভাগের কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম | প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
তিন অধ্যাদেশ বাতিল, আগের নিয়মেই ফিরছে বিচারক নিয়োগ ও বিচার বিভাগের কার্যক্রম
ফাইল ছবি

বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ক্ষেত্র, বিচারক নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি নাকচ করে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর ফলে বিচার বিভাগ আবার আগের কাঠামোয় ফিরে যাচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য আলাদা কোনো আইন আপাতত থাকছে না। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের আইনগত ভিত্তিও বিলুপ্ত হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে ওই অধ্যাদেশের অধীনে নিয়োগ পাওয়া ২৫ জন বিচারকসহ নেওয়া সব সিদ্ধান্ত বৈধ থাকবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পটভূমিতে দেখা যায়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদারের লক্ষ্যে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার বিচারক নিয়োগে ‘জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন এবং সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। সেই অনুযায়ী সচিবালয় চালু হলে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব এই সচিবালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হয়।

তবে নতুন আইনে এসব ব্যবস্থাই বাতিল হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অধীনে থাকা বাজেট, প্রকল্প ও কার্যক্রম আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সচিবালয়ের জন্য সৃষ্ট পদগুলোও বিলুপ্ত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগের আইনের অধীনেই তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।

সংসদে বিল দুটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, “এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিম্ন আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।” তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে।

অন্যদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই ও পরামর্শ প্রয়োজন।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন আইন আনা হবে।

বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিল নিয়েও আলাদা বিতর্ক দেখা যায়। বিরোধী সদস্য আখতার হোসেন বলেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচারপতি নিয়োগে সমস্যা ছিল এবং নতুন অধ্যাদেশে সেই দুর্বলতা কাটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আইনমন্ত্রী জবাবে স্বীকার করেন, অতীতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমস্যা ছিল, কিন্তু সরকার আরও গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ কাঠামো আনতে চায়।

সংসদে কণ্ঠভোটে সব আপত্তি নাকচ হয়ে গেলে বিল দুটি পাস হয়। এখন রাষ্ট্রপতির সম্মতি এবং গেজেট প্রকাশের পর এগুলো আইনে পরিণত হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে