প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে জিম্মি, নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ। প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ সিলেট নগরীতে পরিকল্পিত ‘হানিট্র্যাপ’ কৌশলে তরুণদের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের এক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুই তরুণকে, যারা ওই চক্রের নির্যাতনের শিকার হন। শনিবার (১১ এপ্রিল) কোতোয়ালী মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, নগরের যতরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানজিলা আক্তার (২৭), আব্দুল জলিল (৩০), জেসমিন আক্তার (২২) ও জায়েদ আহমদ (৩৫)-কে আটক করা হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকলেও তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল রাতে মেন্দিবাগ এলাকা থেকে গোলাপগঞ্জের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান রিফাত ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে কৌশলে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেয় চক্রটি। পরে তাদের যতরপুর এলাকার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে নিয়ে জিম্মি করা হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া সদস্যরা দুই তরুণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্যাতন করে। অভিযোগ রয়েছে, ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন, বৈদ্যুতিক শক এবং শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী রিফাত আত্মীয়দের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে চক্রটির হাতে তুলে দেন। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে দুই তরুণকে উদ্ধার করা হয় এবং চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি প্রাইভেট কার, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং কয়েকটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের উত্তরের উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।