সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন কৃষক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে সাত দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’। রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, হাওরের কৃষকদের একমাত্র অবলম্বন বোরো ফসলকে বীমার আওতায় আনতে হবে। তারা বলেন, যেমন সড়ক দুর্ঘটনায় গাড়ির মালিক বীমা দাবি পান কিংবা অগ্নিকাণ্ডে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ পায়, তেমনি ফসলহানির ক্ষেত্রে হাওরের কৃষকদেরও বীমা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রি-ওয়ার্ক ও পোস্ট-ওয়ার্ক পর্যায়ে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ, অক্ষত প্রকল্পে বরাদ্দ প্রদান এবং জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এসব অনিয়মের তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। সমাবেশে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ এলাকার বাঁধ নির্মাণের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। বিক্ষোভ শেষে সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, কাবিটা নীতিমালা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, প্রকৃত কৃষকদের বাঁধ নির্মাণকাজে সম্পৃক্ত করা এবং প্রি-ওয়ার্ক ও পোস্ট-ওয়ার্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। সমাবেশে বক্তব্য দেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সহ-সাধারণ সম্পাদক একে কুদরত পাশা, সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল, শান্তিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আবু সাঈদসহ অনেকে।