গ্রীষ্মকালীন দেশীয় ফলের তালিকায় আতাফল একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর নাম। দেখতে আকর্ষণীয়, স্বাদে মিষ্টি-এই ফলটি যেমন রসনাতৃপ্তি দেয়, তেমনি শরীরের জন্যও বহুমুখী উপকার বয়ে আনে। আর এই আতাফল চাষ করেই এখন সফলতার মুখ দেখেছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার এক উদ্যমী কৃষক আতর আলী। উপজেলার ডলুছড়া গ্রামের বাসিন্দা আতর আলী তার নিজস্ব সমতল ও পাহাড়ি টিলাভূমিতে গড়ে তুলেছেন আতাফলের একটি ছোট কিন্তু সম্ভাবনাময় বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ১০টি আতাফল গাছ, যা থেকে তিনি এ বছর প্রায় ১ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন। আতর আলী জানান, প্রায় ৪ থেকে ৫ বছর আগে তিনি আতাফলের চারা রোপণ করেন। তিন বছর পর থেকে গাছে ফলন আসতে শুরু করে। প্রথম বছরে তিনি মাত্র ১৬ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেন। পরের বছর সেই আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজার টাকায়। আর চলতি মৌসুমে তার উৎপাদন ও বিক্রি আরও বেড়ে গিয়ে লাখ টাকার ঘরে পৌঁছেছে। বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি আতাফল ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তবে সরেজমিনে স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে এই ফলের দাম ৩০০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছে। শুধু আতাফলেই সীমাবদ্ধ নন আতর আলী। তার বাগানে রয়েছে করলা, লটকন, কলা, লেবু, নাগামরিচ, আনারসসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফলের সমাহার। বিশেষ করে ফিলিপাইনের এমডি-২ জাতের আনারস চাষেও তিনি সফলতা পেয়েছেন। আতাফল শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি ফল। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার ও ফসফরাস, যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং বদহজম দূর করতে কার্যকর। এছাড়া এই ফল শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে, দাঁত ও মাড়ি মজবুত করে এবং রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। নিয়মিত আতাফল খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে জানা গেছে। এমনকি এই ফলকে ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি ও সমতল ভূমি আতাফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে এই ফল চাষ করে কৃষকরা সহজেই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। আতর আলীর এই সফলতা তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়-এটি অঞ্চলের অন্যান্য কৃষকদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার গল্প।