কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। গভীর রাতে ও দিনে দুপুরে চোরেরা চুরি অব্যাহত রাখলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নীরব দেখা যাচ্ছে। ফলে এ জনপদে বিরাজ করছে চোর আতঙ্ক। গত এক মাসের ব্যবধানে সরকারি অফিসে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, বাসা-বাড়িতে, দোকানের সামনে পার্কিং করা মোটারসাইকেল, রান্না ঘরের ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পাম্প, অফিস ঘরের ফ্যান, ঘরের আসবাব পত্রাদির পর এবার গোডাউন ঘরের তালাবদ্ধ বৈদ্যুতিক সংযোগে চার্জরত ৩টি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়াও দোকান ঘরের রক্ষিত কম্পিউটার, দিনদুপুরে বাড়ি থেকে স্বর্ণ অলঙ্কার চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার ঘটাচ্ছে চোরেরা। গত এক মাসে ২০ থেকে ২৫টির মতো চুরি ঘটনা ঘটলেও এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চুরি সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি। উদ্ধার করতে পারেনি চুরি হওয়া মালামাল। ফলে মাসজুড়ে চুরির ঘটনায় এখানে জনসাধারণের মাঝে চোর আতঙ্ক বিরাজ কজরছে। নিরাপদহীনতায় ভুগছে এখানকার অসবাব পত্রাদির মালিকরা। সচেতন মানুষরা জোড় দাবি তুলেছেন চোরের উপদ্রব কমিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। ভুক্তভোগী স্থানীয় সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মরত আপেল জানান, গত একসপ্তাহ আগে ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের অবস্থিত তার বাসা দিনে দুপুরে চুরি হয়। চোরেরা তার বাসায় ঢুকে প্রায় দেড়লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের মর্ডান রোডের বাসিন্দা সাবেক কলেজ অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান জানান, তার বাড়িতে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দিনদুপুরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা তার বাসার মূল্যবান সম্পদ চুরী করে নিয়ে যায়। তিনি চোর আতঙ্কে ভুগছেন। স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক জানান, ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার বানিয়াটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা স্কুল ঘরের গ্রিল কেটে ও ঘরের দরজার তালার হ্যাজবল কেটে ঘরে প্রবেশ করে ল্যাপটপ, প্রজেক্টরসহ মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। স্থানীয় মিজানুর রহমান এক সপ্তাহ আগে তার বাড়ি থেকে চোরেরা স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। তারা মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে এখন চোর আতঙ্কে ভুগছেন। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, আমরা চুরির ঘটনায় বিশেষ অভিযান চালাচ্ছি। গত ৩ দিন আগে ২ থেকে ৩ জন চোরকে ধরেছি। আরও ধরার চেষ্টা চলছে। চোরদের ধরতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।