পিরোজপুরে টাকা চুরির অভিযোগ

পুলিশ মেস কেয়ারটেকারকে পুলিশের অমানবিক নির্যাতন

এফএনএস (মোঃ রেজাউল ইসলাম শামীম; পিরোজপুর) :
| আপডেট: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম | প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
পুলিশ মেস কেয়ারটেকারকে পুলিশের অমানবিক নির্যাতন

পিরোজপুর পুলিশ অফিসার্স মেসের এক কেয়ার টেকার ডিবি পুলিশের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পিরোজপুর ডিবির এক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার টাকা চুরি যাওয়ার অভিযোগে বেদম পেটানোসহ দেওয়া হয় বৈদ্যুতিক সখ ও মোম গলিয়ে পুরুষাঙ্গে ঢেলে ঝলসে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।   ১৩ এপ্রিল সোমবার দুপুরে এ নির্মম ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি জানাজানি হয় শুক্রবার। চুরির ওই মিথ্যা অভিযোগে এমন নির্যাতন চালানো হলেও চুরির টাকা উদ্ধার হয় ওই মেসের অন্য এক কর্মীর কাছ থেকে। এ ঘটনায় ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আরিফুল ইসলামসহ তিন জনকে ক্লোজ করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই কেয়ার টেকার পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারেক আলী ফকিরের ছেলে মোঃ ইউনুস ফকির (৪০)। নির্মম এ ঘটনা পুলিশ মহলসহ সবখানে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান জানিয়েছে, ইউনুস পিরোজপুরে পুলিশ কর্মকর্তাদের মেসে অস্থায়ীভাবে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতো। ওই মেসের ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের টাকা চুরি যাওয়ার অভিযোগ এনে নির্মম এ নির্যাতন চালানো হয়। পিরোজপুর পুলিশ লাইনস সংলগ্ন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার মেসে থাকেন ডিবির ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম।  তার কক্ষের দুটি চাবির একটি ইউনুসের কাছে ছিল। সোমবার দুপুরে ওসি আরিফ ইউনুসের কাছে থাকা চাবিটি ফেরত চায়। চাবি দিতে ইউনুস ব্যর্থ  হলে আরিফের কক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে জানিয়ে বলে  ইউনুসই সেই টাকা চুরি করেছে।   এরপর টাকা ফেরত দিতে তাকে তাকে চাপ দেওয়া হয়।  ইউনুস টাকা চুরির কথা অস্বীকার করায় তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ভবনের নিচতলায় নিয়ে ডিবি পুলিশের বেশ কয়েক সদস্য নির্দয়ভাবে পেটায়। পেটানোর পর দেওয়া হয় বৈদ্যুতিক সখ। নির্যাতনের সময় ইউনুস আর্ত চিৎকার করলে মুখে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে   ইউনুসকে মেসের রান্না ঘরে নিয়ে মোম জ্বালিয়ে গরম মোম তার পুরুষাঙ্গে ঢেলে দেয়।  এ অমানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে।  

পরে ডিবি পুলিশের লোকজন তাকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। তখন পরিবারের সদস্যরা টাকা ফেরৎ দেওয়ার জন্য ওই দিন রাত পর্যন্ত সময় চান। এরপর মেসে নিয়ে আবারও ইউনুসের উপর নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা আরিফকে টাকাগুলো পৌছে দেয়। টাকা পাওয়ার পর ইউনুসকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর কাছে নেওয়া হয়। পুলিশ সুপার ইউনুসের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার পর ওই মেসের ঝাড়ুদার শাকিলকে ডেকে পাঠান। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল টাকা চুরির কথা স্বীকার করে এবং চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার হয়। ফেরত দেওয়া হয় ইউনুসের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া টাকা। 

ইউনুসকে চিকিৎসার জন্য তার পরিবার পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিতে চাইলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তাকে পিরোজপুর শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হবে এ ভয়ে চিকিৎসকের কাছে ইউনুসের সমস্যার বিষয়ে কিছুই বলতে দেওয়া হয়নি। পরের দিন ডিবি পুলিশ ইউনুসকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। সেখানে ইউনুসকে বলতে বাধ্য করে যে, স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে সে নিজেই নিজের পরুষাঙ্গ পুড়িয়ে দিয়েছে এবং পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে। আনিসুর রহমান বলেন, এ ঘটনার পর তার ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এছাড়া পুলিশের সাথে পেরে উঠবে না ভেবে তারা কোথাও কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে এঘটনার সুষ্ঠ বিচার হবে বলে পুলিশ সুপার ইউনুসের পরিবারকে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান আনিসুর। ডিবির পক্ষ থেকে ইউনুসকে একটি কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য বলা হলেও তার পরিবার এ পৈশাচিক নির্যাতনের বিচার দাবি করেছে। ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, একজন খুনিকেও মানুষ এভাবে নির্যাতন করে না।  এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিবির ওসি আরিফের সাথে কথা বলা যায়নি। তবে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ডিবির ওসি আরিফুল ইসলামসহ তিন জনকে ক্লোজ করা হয়েছে। জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে, সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে