দেশে জলাবদ্ধতা ও বন্যা ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বড় ধরনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ২৭ এপ্রিল যশোর এবং ২ মে সিলেটে খাল খনন কর্মসূচিতে সশরীরে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে সরকার।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মসূচি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আসন্ন বর্ষা ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি, নদী ভাঙন প্রতিরোধ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের চলমান কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, “অল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের আন্তরিক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের উদ্যোগ চলছে।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নীতিগত দিকনির্দেশনাও গ্রহণ করা হয় বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন এবং বিকেলে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে যোগ দেন। এর আগে তিনি বেলা ১২টায় সচিবালয়ে প্রবেশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খাল খনন ও পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যা কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কার্যকর বাস্তবায়ন ও সমন্বিত পরিকল্পনাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আশার সঞ্চার হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই ফল পেতে ধারাবাহিক নজরদারি এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।