ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ লাখ লাখ মানুষ।।দেশে জ্বালানি তেল আমদানি, রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চলমান সংকটের পর। এবার উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতায় প্রায় লাখ লাখ মানুষ। বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দিনের বেলায় চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট। আর রাতে চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ মেগাওয়াটে, যেখানে সরবরাহ থাকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে হঠাৎ হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের কঠোর নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কোনো ধরনের ঝড়-বৃষ্টি বা দৃশ্যমান কারিগরি ত্রুটি ছাড়াই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। ঝড় বৃষ্টির পর ১৪ মঙ্গবার রাত ১০ টা থেকে পরেদিন বিকাল ৫ টায় পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। এর পর শুরু হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
অব্যাহত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রমেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। চলমান প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা এবং আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। দুর্ভোগে রয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। ফটোকপি, কম্পিউটার সার্ভিস, ওয়েল্ডিংসহ ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসার মৌসুমেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। শুধু তাই নয়, ঘন ঘন বিদ্যুৎ ওঠানামার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ফুলবাড়ীয়া বাজারের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আর পরিবর্তন হতে পারলাম না। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ব্যবসা চালানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফুলবাড়ীয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, নিশীদ কুমার কর্মকার বলেন, জাতীয় গ্রিডে লোড ম্যানেজমেন্টের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এলাকাবাসী জানায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে না পারা, কিংবা সামান্য বৃষ্টিতেই যদি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তাহলে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের কার্যকর সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো উপজেলাবাসী।