শাহজালালে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
শাহজালালে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার উদ্বোধন

বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর বড় অগ্রগতি যুক্ত হলো। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের বিমান চলাচল আরও নিরাপদ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম প্রধান অতিথি হিসেবে এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। উদ্বোধনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আকাশপথ ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার চালুর ফলে ফ্লাইট পরিচালনায় নির্ভুলতা ও সময়ানুবর্তিতা বাড়বে। পাশাপাশি আকাশসীমার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে, যা আন্তর্জাতিক মান পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আফরোজা খানম বলেন, “আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশের আকাশসীমা আরও নিরাপদ ও দক্ষ হবে।” তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে ফ্রান্স সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, “থ্যালেসের সরবরাহকৃত প্রযুক্তি আমাদের সক্ষমতা বহুগুণে বাড়াবে।”

তিনি আরও বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে এবং এই কেন্দ্র সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। এই ব্যবস্থা বিমান চলাচলকে আরও নিরাপদ ও দক্ষ করে তুলবে।” তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, “এই আধুনিক সেন্টার দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগের সূচনা করেছে। অত্যাধুনিক এটিএম-সিএনএস সিস্টেম চালুর মাধ্যমে নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লে এই প্রকল্পকে দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের আকাশপথকে আরও নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করে তুলবে।”

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, এই সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ডেটা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। এতে ওভারফ্লাইট রাজস্ব বাড়বে, ফ্লাইট বিলম্ব কমবে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিওন সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমেও এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে