মির্জাগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে ২ হিন্দু নারীকে নির্যাতন, থানায় অভিযোগ

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
মির্জাগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে ২ হিন্দু নারীকে নির্যাতন, থানায় অভিযোগ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের দক্ষিন গাবুয়া গ্রামে একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে গাছের ডাল-পালা কাটা নিয়ে বিবাদের মীমাংসা করতে গিয়ে জমির মালিকানা দাবীকারীর পক্ষ নিয়ে দুই হিন্দু নারী ও একজন পুরুষসহ তিনজনকে নির্যাতন করে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে  এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন গাবুয়া গ্রামে সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোঃ মজিবর রহমান উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সহ সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য।  নির্যাতনের শিকার সবিতা রানী, স্বামী সমীর চন্দ্র হাওলাদার ও তার কন্যা ঝিলিক রানী অভিযোগ করেন, উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন গাবুয়া গ্রামে সমীর চন্দ্র হাওলাদারের বসত ঘরের সামনে স্বর্গীয় কান্তি চরন গোস্বামী (সমীর চন্দ্র হাওলাদার এর দাদা) কর্তৃক দানকৃত জমিতে নির্মিত একটি মন্দির সংলগ্নে একটি বনজ গাছ(চাম্বল গাছ) এর ডাল পালা কাটার সময় সমীর চন্দ্রের ভাই শংকর চন্দ্র গাছের মালিকানা দাবী করে বাঁধা দেয়, এসময় কথাকাটির এক পর্যায়ে শংকর চন্দ্র স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোঃ মজিবর রহমান কে মোবাইল ফোনে ডেকে আনে। বিএনপি নেতা মজিবর রহমান লোকজন নিয়ে ঐ বাড়ীতে হাজির হয়ে জমির মালিকানা দাবীদার শংকর চন্দ্র হাওলাদারের পক্ষ নিয়ে সমীর চন্দ্রকে লাঠিপেটা করতে থাকে,এসময় তার মেয়ে ঝিলিক রানী(২২) ও স্ত্রী সবিতা রানী (৫০) সমীর চন্দ্র হাওলাদারকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে বিএনপি নেতা মোঃ মজিবর রহমানের নেতৃত্বে তার সাথে থাকা ৫-৬ জন লোক তাদেরকে বেপরোয়া লাঠিপেটা করে রক্তাক্ত জখম করে আহত করে এবং বাড়ী থেকে চলে যেতে হুমকি প্রদান করেন।  ঘটনার দিন বিকালে আহত সবিতা রানী, ঝিলিক রানী ও সমীর চন্দ্র হাওলাদার মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন, এবং চিকিৎসা শেষে রবিবার বিকালে তারা ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে যান, বর্তমানে তারা বাড়ীতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নির্যাতনের শিকার সবিতা রানী ও ঝিলিক রানী আরও অভিযোগ করে বলেন- বিএনপি নেতা মোঃ মজিবর রহমান ইতোপূর্বে আওয়ামীলীগের শাসনামলেও তাদেরকে বাড়ী থেকে উৎখাত করতে কয়েকবার মারধর করে আহত করেন। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতার ভুগছি।  অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোঃ মজিবর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।  আমি এ ঘটনার সাথে জড়িত নই।একটি মহল আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় করতে ষড়যন্ত্র করে তাদেরকে দিয়ে অভিযোগ করছে। একটি মন্দিরের জমি ও গাছ নিয়ে তাদের আভ্যন্তরীন বিবাদ হলে সংবাদ পেয়ে স্থানীয় লোকজন নিয়ে বাড়ীতে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। তিনি আরও বলেন- আমি যাওয়ার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়,সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়।আমি ও আমার সাথে থাকা লোকজন কাউকে মারধর করেনি। এ বিষয়ে জমির অপর মালিকানা দাবীদার শংকর চন্দ্র হাওলাদারের সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে (০১৭৮৫-৫১৫১০২) একাধিকবার কল করলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবুদ্দিন নান্নু বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের উপর এহেন কাজ নিন্দনীয়।তবে অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সে দলের যে নেতাই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবদুস সালাম বলেন- ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এ বিষয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, নির্যাতিত  হিন্দু পরিবারটিকে সর্বোচ্চ আইনী সহায়তা দেয়া  হবে। অভিযুক্তরা যেই হোক  তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে