কিশোরগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ সোহানা নাসরিন মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিঃ সকালে যোগদান করেছেন। যোগদানের পর পরই কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করেন। এরপর একে একে প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলার প্রশাসনে এসেছে নতুন নেতৃত্ব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সোহানা নাসরিনকে জেলার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তিনি ডিসি হন। সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই সোহানা নাসরিনকে কিশোরগঞ্জে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। একই প্রজ্ঞাপনে সুনামগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানকে পদায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোহানা নাসরিন পূর্বে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রশাসনিক দক্ষতা ও কর্মতৎপরতার স্বাক্ষর রাখেন। একই সময়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নিকলী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তার দায়িত্বকালে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিক্ষা খাতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং মাঠ প্রশাসনে গতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয়দের অভিমত। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখায় তিনি ‘সাংবাদিকবান্ধব’ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর পুনরায় কিশোরগঞ্জে দায়িত্ব নিতে আসায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ইতিবাচক প্রত্যাশা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতায় জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে। বর্তমান সরকার প্রশাসন পরিচালনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কিশোরগঞ্জেও প্রশাসন পরিচালনায় বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। ২০১৭ সালে জেলায় কর্মরত ৮ জন নারী নির্বাহী কর্মকর্তা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে আজকের জেলা প্রশাসক অন্যতম।