সিলেট বিভাগে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়। চলতি বছরে বিভাগের ২২৫টি কেন্দ্রে মোট ৮৯ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ হাজার ৬৫০ জন ছাত্র এবং ৫৩ হাজার ৯৯৩ জন ছাত্রী। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১২ হাজার ৭৯৮ জন। এর আগের বছরও কমেছিল ৬ হাজার ৮৫৪ জন, ফলে ধারাবাহিক এই হ্রাস নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৪৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এছাড়া মৌলভীবাজারে ১৯ হাজার ৯৪৮ জন, সুনামগঞ্জে ১৮ হাজার ৪২২ জন এবং হবিগঞ্জে ১৫ হাজার ৮১৮ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। বিভাগ অনুযায়ী মানবিক শাখায় পরীক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি-৫৮ হাজার ১৯৯ জন। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৮৮ জন ছাত্র এবং ৩৫ হাজার ১১১ জন ছাত্রী। বিজ্ঞান বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ২৫ হাজার ১৯১ জন (ছাত্র ৯ হাজার ৫১০, ছাত্রী ১৫ হাজার ৬৮১)। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশ নিচ্ছে ৬ হাজার ২৫৩ জন, যার মধ্যে ৩ হাজার ৫২ জন ছাত্র এবং ৩ হাজার ২০১ জন ছাত্রী। এবার বিভাগের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২২৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে সিলেটে ৯৪টি, সুনামগঞ্জে ৪৫টি, হবিগঞ্জে ৪৯টি এবং মৌলভীবাজারে ৩৭টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন জানান, বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৯ হাজার ৪২১ জন। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৫৩০ জন ছাত্র এবং ৫৩ হাজার ৮৯১ জন ছাত্রী। পরীক্ষা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সিলেট মহানগর এলাকায় ৩৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে থেকে শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা পর পর্যন্ত ২০০ গজের মধ্যে জনসমাবেশ, মিছিল, উচ্চ শব্দ, মাইক ব্যবহার, অস্ত্র বা বিস্ফোরক বহন এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথম দিনের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শিক্ষা কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যেমন উৎসাহ রয়েছে, তেমনি কিছুটা উদ্বেগও লক্ষ্য করা গেছে। তবে কঠোর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতায় পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।