দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার বাংলাদেশ ও চীনের

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার বাংলাদেশ ও চীনের

ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে আরও গভীর হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

স্পিকার তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফর বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কই দুই দেশের বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি।

স্পিকার আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক সফর বিনিময় এবং সংসদীয় যোগাযোগ বাড়ানো হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে। তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সার্কে চীনের পর্যবেক্ষক হিসেবে ভূমিকা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন।

সাক্ষাতে স্পিকার তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। এ সময় তিনি বলেন, উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত করতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দুই দেশের চলমান সহযোগিতাকে সন্তোষজনক উল্লেখ করে ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎ শেষে দুই পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। এ সময় চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের মধ্যে উপহার বিনিময়ও অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে একই দিনে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। ডেপুটি স্পিকার বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার এবং তাদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে যাতায়াত প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন। এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমাগত বাড়ছে এবং রাজনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত হবে।

উভয় সাক্ষাতেই পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে