সরকারের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
সরকারের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

সরকারের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় বুধবার বোরো, মৌসুমে ধান চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সভা শেষে কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা করেন- কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে ৫ লাখ টন ধান, ৪৯ টাকা দরে ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল, ৪৮ টাকা দরে ১ লাখ টন আতপ চাল কিনবে সরকার। ধান ৩ মে থেকে, চাল ১৫ মে থেকে সংগ্রহ চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের আহবায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু ও সাধারণ সম্পাদক অজিত দাস বলেন- ' সরকারের এই ঘোষণা আবারও কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হল। সরকার পূর্বের ধারাবাহিকতায় ধানের মূল্য কম নির্ধারণ করা এবং  ধানের থেকে চাল বেশি কেনার ঘোষণা দিয়েছে। কৃষকরা বারবার চালের থেকে ধান বেশি কেনার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু সরকার মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে চাল বেশি কিনবে। এর মাধ্যমে কৃষক নয় লাভবান হবে ব্যবসায়ীরা। ধানের উৎপাদন খরচ বাড়লেও সরকার ক্রয়মূল্য গতবারের ন্যায় ৩৬ টাকাই রেখেছে। যদিও কৃষক বাজারে এই মূল্যও পাবে না।ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে প্রতি মণ ৬৫০-১০০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে কৃষককে বাধ্য করছে। সরকারের এ ব্যাপারে কোন তদারকি নেই।

সরকারের এই ঘোষণায় সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান কেনার কোন কথা নেই। ফলে সাধারণ কৃষক খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হবে। নাম নিবন্ধন, নির্দিষ্ট আর্দ্রতা, সরাসরি টাকা পরিশোধ না করা ইত্যাদি জটিলতার কারণে সাধারণ কৃষক গুদামে ধান বিক্রি করতে পারে না। বিক্রি করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী লোকজন।   ফলে হাটে ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান না কিনলে কৃষক কখনোই সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারবে না।'

নেতৃবৃন্দ কৃষকের স্বার্থে ধান চাল ক্রয়ের ঘোষণার সাথে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান- 

১. চালের দ্বিগুণ অর্থাৎ ২৬ লক্ষ টন ধান কিনতে হবে। 

২. হাটে হাটে ক্রয়কেন্দ্র চালু করে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান কিনতে হবে। 

৩. কৃষকের উৎপাদন খরচ ও পরিশ্রম বিবেচনায় ধানের লাভজনক মূল্য নির্ধারণ কর।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে