কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্ব কান্দা এলাকায় নিখোজের ৭ দিন পর মোজাহিদ নামে ৭ মাসের এক শিশুর পরিত্যাক্ত এক ডোবা থেকে লাস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকাবাসীর অভিযোগ পারিবারিক কলহের জেরে এক মাত্র শিশু সন্তান মোজাহিদকে তার পিতা মেরাজ মিয়া (৩০) হত্যা করে লাস ডোবায় ফেলে দেয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিহত শিশুটির লাস ডোবা থেকে ভেসে ওঠলে এলাকাবাসী দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ অর্ধগলিত লাসটি উদ্ধার করলে শিশুটির মা তার ছেলের লাস বলে সনাক্ত করে। ময়নাতদন্তের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় কিশোরগঞ্জের মর্গে শিশুটির লাস পেরণ করা হয়।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায় শিশু মোজাহিদের বাবা মেরাজ মিয়া (৩০) একজন মাদাকাসক্ত চিহ্নিত ব্যাক্তি। সে পেশায় একজন জুতা তৈরির কারিগর। তার বাড়ি মানিকদী পূর্ব কান্দায়। ভিটে বাড়ি বিক্রি করে তার ভাই এর ঘরে আশ্রয় হিসেবে বসবাস করতো। সে একই গ্রামের পূরান গাঁও এলাকার আক্তার মিয়ার মেয়ে তাসলিমা কে বিয়ে করেছিল। গত ৭ মাস আগে তাদের কোলজুড়ে এক ছেলে সন্তান ভূমিষ্ট হয়। এরপর থেকে পিতা মেরাজ মিয়া ও তার স্ত্রী তাসলিমার মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক ঝগরা বিবাদ লেগে থাকত। কিছুদিন আগে ঝগড়ার এক পর্যায়ে তাসলিমা শিশু পুত্র মোজাহিদকে নিয়ে তার বাবার বাড়ি চলে যায়। হঠাৎ গত শুক্রবার দিন মোজাহিদ ডায়রিয়াই অসুস্থ হলে তার দাদী রাবেয়া বেগম নাতীকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। ওই দিন শুক্রবার থেকেই শিশু মোজাহিদ নিখোঁজ ছিল। এলাকায় গুঞ্জন ছিল বাবা মেরাজ মিয়া শিশুটিকে কোথাও বিক্রি তরে দিয়েছিল। এক পর্যায়ে মা তাসলিমা শিশু নিখোঁজ হওয়া নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন। ঘটনার পর থেকে বাবা মেরাজ মিয়া পলাতক ছিলেন। মানিকদী পূর্ব কান্দা গ্রামের জজ মিয়া জানান মেরাজ একজন মাদকাসক্ত ব্যাক্তি। সে পেশায় একজন জুতা তৈরির কারিগর হলেও সারাদিন মাদক নিয়ে ডুবে থাকত। শিশুটির মা তাসলিমা অভিযোগ করে বলেন, আমার শিশু হত্যার ঘাতক আমার স্বামী। আমি রাষ্ট্রের কাছে সন্তান হত্যার বিচার চাই। শিশুটির নানা আক্তার উদ্দিন বলেন আমরা ৬-৭দিন ধরে অনেক খোজাখুজি করছি। কোথাও আমার নাতীকে পাইনি। ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে ডোবায় লাস দেখতে পায় ও লাসটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তদন্ত করে কেন কি কারণে হত্যা করা হল আমরা যাচাই-বাচাই করছি। অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।