সিলেট বিভাগের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আহূত একটি জনসভায় প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে অরাজনৈতিক সংগঠন ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’। শনিবার (২৫ এপ্রিল) নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সিলটি পাঞ্চায়িত কমিটি লিখিত বক্তব্যে জানায়, গত ১৮ এপ্রিল সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় কর্মসূচিটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় তারা। এ ঘটনার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন, সিলটি ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা বা অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে দাবী করে আসছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, জনসভার অনুমতির জন্য যথাযথ নিয়মে পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করা হলেও পরবর্তীতে তাদের ডেকে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়, যার মধ্যে স্বায়ত্তশাসন ও সিলটি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি বাদ দেওয়ার বিষয়টি ছিল। তবে সংগঠনটি এসব দাবি থেকে সরে না দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনের নেতারা বলেন, এটি সংবিধান স্বীকৃত মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের পরিপন্থী। তারা দাবি করেন, ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন নয়, বরং এটি সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবির পক্ষে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের ইতিহাস তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা স্বায়ত্তশাসন, সিলটি ভাষার স্বীকৃতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিলটি ভাষার নিজস্ব লিপি ‘সিলটি নাগরী’ রয়েছে এবং দেশে ও প্রবাসে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ এ ভাষায় কথা বলেন। তাই এ ভাষাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া সময়ের দাবি বলে তারা মনে করেন। এছাড়া প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ সহ সিলেট বিভাগের জন্য স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলে ধরে বলা হয়।