চরভদ্রাসনে পূর্ব শত্রুতার জেরে

যুবককে কুপিয়ে হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করেছে প্রতিপক্ষরা

এফএনএস (চরভদ্রাসন, ফরিদপুর) : | প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
যুবককে কুপিয়ে হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করেছে প্রতিপক্ষরা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের ফাজিলখার ডাঙ্গী গ্রামের ধলা মুন্সির ছেলে হায়দার মুন্সি (৩৫)কে তার নিজ বাড়ীর উঠানে গত শনিবার রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বাম হাতের কব্জি ও ডান পায়ের নিচের (টাকনু থেকে পায়ের পাতার অংশ) বিচ্ছিন্ন করেছে প্রতিপক্ষরা। এ সময় আহতর ছোট ভাই সুজন মুন্সি (২৬) এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পূর্ব শত্রুতার জ্বের ধরে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ নূর ইসলাম মন্ডলের ছেলে কালাম মন্ডল (৩৫) ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা মিলে রাম দ্যা ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে রাজ মিস্ত্রী হায়দার মুন্সির হাত-পা কর্তন করেছে বলে অভিযোগ। এ ঘটনার পর ওই রাতেই আহতদের মা নিরু বেগম বাদী হয়ে চরভদ্রাসন থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলা নং-১৫, তাং-২৬/০৪/২০২৬খ্রি.। এ মামলায় চার জনকে আসামী করা হয়েছে। আর আহত হায়দার মুন্সি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। রবিবার চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান,“ খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছি এবং প্রত্যেক আসামীর বাড়ীতে দফায় দফায় অভিযান করেছি। কিন্তু আসামীরা ঘটনা ঘটিয়েই বাড়ীঘর ছেড়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে। এমনকি, আসামীদের মোবাইল ফোনগুলোও বন্ধ করে রেখেছে। তিনি আরও জানান, আসামীরা যেথায়ই পালিয়ে থাকুক তাদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে তারা পার পাবে না”।  ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের অভিযোগ, আহত হায়দার মুন্সি অত্যান্ত গবির পরিবার। সে এ এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করে জীবীকা অর্জন করতো। প্রায় তিন বছর আগের একটি মারামারির মামলার প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী ছিল হায়দার মুন্সি। সেই ঘটনায় হায়দার মুন্সি একই গ্রামের কালাম মন্ডলের পক্ষে সাক্ষ্য দেয় নাই। এতে প্রতিপক্ষ কালাম মন্ডল ক্ষুব্ধ হয়ে ছিল হায়দার মুন্সির ওপর। এরই জ্বের ধরে গত শনিবার রাতে পরিকল্পিতভাবে কালাম মন্ডল তার লোকজন সাথে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হায়দার মুন্সির হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ সময় আহতের ভাই এগিয়ে গেলে তাকে কুপিয়ে হাতে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষরা।  ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে অবস্থা ব্যতিক দেখে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেফার্ড করেন। সেখান থেকে আহতর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানা যায়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে