সবুজে ঘেরা আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর দেশে প্রকৃতি প্রতিনিয়ত বদলায় তার রূপ-রঙ। ঋতুর পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিও সেজে ওঠে নতুন সাজে। এখন গ্রীষ্মকাল-খরতাপের মাঝেও প্রকৃতি যেন রঙিন উৎসবের আয়োজন করেছে। এই সময়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য হয়ে উঠেছে বেগুনি রঙের মনোমুগ্ধকর জারুল ফুল। শ্রীমঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীণ পথঘাট, ঝোপঝাড় ও রাস্তার ধারে চোখে পড়ে জারুল ফুলের দৃষ্টিনন্দন সমারোহ। পথ চলতে চলতে হঠাৎ চোখে পড়া এই ফুলের সৌন্দর্যে থমকে দাঁড়ান পথচারীরা। বেগুনি রঙের থোকা থোকা ফুল যেন প্রকৃতির বুকে ছড়িয়ে দিয়েছে অপার সৌন্দর্য। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও জারুল গাছগুলোয় ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন এক টুকরো প্রশান্তির বার্তা বহন করে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা গাঢ় বেগুনি ফুল প্রকৃতিকে করে তোলে আরও জীবন্ত ও আকর্ষণীয়। যেন প্রকৃতি নিজেই তার রঙিন তুলিতে আঁকছে এক অপূর্ব দৃশ্যপট। গ্রামবাংলার পরিচিত এই গাছ সাধারণত রাস্তার ধারে, জমির আইলে কিংবা অবহেলিত স্থানে নিজে থেকেই জন্মায়। বড় আকারের এই বৃক্ষের উচ্চতা ৮০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এর বাকল মসৃণ এবং ধূসর বর্ণের। শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে দণ্ডাকারে অসংখ্য ফুল ফোটে, যা ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হয়ে পুরো গাছকে ঢেকে ফেলে বেগুনি রঙে।
জারুল ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম খধমবৎংঃৎড়বসরধ ংঢ়বপরড়ংধ, আর ইংরেজিতে একে বলা হয় এরধহঃ ঈৎধঢ়ব-সুৎঃষব। ফুলের পাপড়ি সাধারণত ছয়টি এবং মাঝখানে থাকে হলুদ রঙের পরাগ। ফুল শেষে গাছে গোলাকার বীজ উৎপন্ন হয়, যা দিয়ে এর বংশবিস্তার ঘটে। বাংলাদেশে সাধারণত নীলাভ ও গোলাপি রঙের জারুল বেশি দেখা যায়। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, জারুলের আদি নিবাস শ্রীলঙ্কা হলেও এটি ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এর দেখা মেলে। শুধু সৌন্দর্যেই নয়, জারুল গাছের রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। জ্বর, কাশি, অনিদ্রা ও অজীর্ণতায় এর ব্যবহার প্রচলিত। এছাড়া বাতের ব্যথা উপশমেও এর পাতা ব্যবহৃত হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জারুলের বীজ, ছাল ও পাতার কার্যকারিতার কথাও উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রীষ্মের শুরুতে জারুলের এই রঙিন উপস্থিতি যেন প্রকৃতিতে এনে দেয় এক ভিন্ন মাত্রা। খরতাপের মধ্যেও এর বেগুনি আভা ছড়িয়ে দেয় প্রশান্তি, যা মুগ্ধ করে রাখে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষকে। সত্যিই, পথের ধারে ফুটে থাকা জারুল ফুল যেন গ্রীষ্মের এক অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক।