কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, কুলিয়ারচর, নিকলী, অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনাসহ হাওর অঞ্চলে তিনদিনের বৃষ্টিতে ইরি বোরো ধানের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকের কয়েক হাজার জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকগণ মহা চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। কৃষি ও আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বৃষ্টি আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে তারা ধারণা করছেন। গত কয়েকদিন আগেও কৃষি অফিস কৃষকদের কে বিভিন্ন হাওরের মসজিদ ও এলাকায় মাইক লাগিয়ে কৃষকদের কে সচেতন করার জন্য তারা বলেন, যেসব ধানি জমি শতকরা ৮০ ভাগ পেকে গেছে সে জমি গুলো কাটার জন্য বলা হলেও কৃষক তা কাটেনি বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈশাখ মাসে কৃষকরা ইরি বোরো ধানের জমি কাটলেও কৃষকরা প্রতি মন ধান ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। যা কৃষকদের মন প্রতি খরচ পড়েছে ১০০০ টাকা। এদিকে মধ্য স্বত্ত্ব ভোগিদের কাছ থেকে কৃষকরা ঋণ নিয়ে জমি লাগিয়েছিল। এখন কৃষকরা তাদের ধান দিতে গিয়ে এখন গলা পর্যন্ত ঋণ হয়ে গেছে। অন্যদিকে গত দুইদিনে বৈরি আবহাওয়ার কারণে এসব হাওরের প্রায় জমিই পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে কৃষকের অনেক জমি পানিতে তলিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ করা না শর্তে ও গতকাল হাওরের কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, এ বছর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধানি জমিতে গোড়া পচা রোগের কারণে। তারা পাকাধানের জমি একর প্রতি কাটতে গিয়ে ৫০-৬০ মন ধর হয়েছে। গত বছর একই জমিতে ৭০-৮০ মন ধর ধান হয়েছিল। এ বছর এ ক্ষতি পূষিয়ে আনতে তাদের ঋণ ছাড়া আর কিছুই থাকবে না বলে জানা গেছে। এজন্য কৃষকরা আরো বলেন, তাদের দুঃখ ছাড়া আর কিছুই রইলো না এ বছরে। বাজিতপুর কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জমি তলিয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু কৃষকরা যদি ২-৩ দিনের মধ্যে ধান কেটে ফেলে তাহলে তা পুষিয়ে নেওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন।