ভোটার নিবন্ধনে এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলক করল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
ভোটার নিবন্ধনে এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলক করল ইসি

জাতীয় পরিচয়পত্রে তথ্য সংশোধনের জটিলতা কমাতে ভোটার নিবন্ধনের সময় এসএসসি ও সমমানের সনদ ডাটাবেজে সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা তার বেশি হলে নিবন্ধনের সময় এই সনদ যুক্ত না করলে ভবিষ্যতে তথ্য যাচাইয়ে সমস্যা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনা দেশের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, এনআইডির তথ্য, বিশেষ করে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমানের সনদ যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা তার বেশি হলেও সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো ডাটাবেজে ওই সনদ সংযুক্ত করছে না। এতে তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়।

আরও বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রুফ কপি থাকার পরও আবেদনকারী শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এতে সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তির সময় কর্মকর্তা ও আবেদনকারীর মধ্যে অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলছে।

এ অবস্থায় কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, নিবন্ধিত ব্যক্তি যদি মাধ্যমিক বা তদূর্ধ্ব পাস হন, তাহলে তার এসএসসি বা সমমানের সনদ অবশ্যই ডাটাবেজে সংযুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যারা উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা তার বেশি ডিগ্রিধারী, তাদের ক্ষেত্রেও এসএসসি সনদ সংযুক্ত বাধ্যতামূলক থাকবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট অফিসে হার্ড কপি হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অফিস পরিদর্শনের সময় এই কার্যক্রম তদারকি করবেন। প্রয়োজনে নমুনাভিত্তিকভাবে যাচাই করে নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এনআইডি সংশোধনের সময় তথ্য যাচাই সহজ হবে এবং জন্মতারিখ সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে