মালয়েশিয়ায় হত্যাকান্ডের শিকার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের প্রবাসী নজরুল ইসলামের(৩২) লাশ তার গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে।শনিবার ভোরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গোবরডাঙ্গা গ্রামে লাশ এসে পৌছায়। প্রবাসে হত্যাকান্ডের শিকার হওয়ার ১৮ দিন পর লাশ নিজ গ্রামে ফিরেছে। এঘটনায় গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। শনিবার সকাল ১০ টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। শুক্রবার দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাশ পৌঁছে। আইনি সকল প্রক্রিয়া শেষ করে ভোর ৪ টার দিকে নিহতের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।এ সময় লাশ দাফনের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় থেকে নজরুলের মায়ের নামে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। নিহতের স্বজনরা জানায়,মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামকে (৩২) কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় কোহিনুর বেগম নামে তার এক বাংলাদেশিও হত্যা করা হয়। নিহত নজরুলের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামে। নিহত নজরুল ইসলাম ওই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ায় ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালে উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। এই হত্যাকান্ডের খবরে ও লাশ গ্রামে পৌছানোর পরে গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
নজরুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় একটি সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছিলেন নজরুল ইসলাম। সেখানে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির পাশাপাশি বিভিন্ন পোষা প্রানী লালন-পালন করতেন। এই ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় অংশীদাররা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।নজরুল ইসলামের ভাই জহির উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে নজরুলের বিরোধ চলছিল এবং তাকে এর আগেও কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সবকিছু গুছিয়ে খুব শিগগির স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার কথা ছিল নজরুলের। কিন্তু তার আগেই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।
২০২৬ সালের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার শেনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিমের মেয়ে কোহিনুর বেগমের সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে নজরুলের অসুস্থতার খবর পেয়ে কোহিনুর মালয়েশিয়ায় যান।নিহত কোহিনুরের ভগ্নিপতি আলমগীর হোসেন বলেন, কোহিনুরের দুটি সন্তান রয়েছে। সে আমাদের না জানিয়ে একাই মালয়েশিয়া গেছে। কবে কখন গেছে আমরা কিছুই বলতে পারি না। পরিবারের লোকজন প্রায় দেড় মাস আমরা তার কোন সন্ধান পাচ্ছিলাম না। এখন শুনছি সে মালয়েশিয়া গিয়ে খুন হয়েছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি বিদেশে হওয়ায় আমাদের কাছে সরাসরি কোনো তথ্য নেই। নিহত নজরুলের বাবা মোতালেব হোসেন ছেলের হত্যাকারীদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বলে শুনেছি। এ ঘটনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর কাজ করবে। আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি।