সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ গাবুরার গাইনবাড়ী থেকে চৌদ্দরশি বাজার। যাতায়াতের জন্য এই অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘ এই পথ ধরে হাঁটলে এখন আর বোঝার উপায় নেই যে এটি একসময় পাকা বা চলাচলের যোগ্য সড়ক ছিল। অসাধু মৎস্য ঘের মালিকদের খামখেয়ালিপনায় সড়কের ওপর যত্রতত্র মাটি ফেলায় পুরো রাস্তাটি এখন কর্দমাক্ত এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, সড়কটি এখন আর রাস্তা নেই, ‘খালে’ রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, গাইনবাড়ী থেকে চৌদ্দরশি বাজারগামী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে থাকা ঘেরের মালিকেরা নিজেদের সুবিধার্থে সড়কের জায়গা ব্যবহার করে মাটি স্তূপ করে রেখেছেন। বৃষ্টির ফলে সেই মাটি ধুয়ে ও পিচ্ছিল হয়ে সড়কে মিশে গেছে। ফলে ভ্যান, ইজিবাইক তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে চার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগী-সবাইকে এই কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে চরম ঝুঁকি নিয়ে। বিশেষ করে রাতে বা বৃষ্টির সময় এই দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় ভুক্তভোগী ইয়াসিন আরাফাত, মিজানুর রহমান, আব্দুর রহিমসহ অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, "কিছু প্রভাবশালী মানুষ নিজেদের স্বার্থে সরকারি রাস্তা নষ্ট করে দিচ্ছে। প্রশাসনের নজর নেই, আবার তাদের কিছু বলতে গেলেও সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ে। আমরা এখন কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছি।"
এলাকাবাসী আরও জানান, সড়কটি রক্ষায় এবং চলাচলের উপযোগী করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বারবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জনদুর্ভোগ চরম সীমায় পৌঁছানোয় এখন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। তাদের দাবি, অবিলম্বে সড়কের ওপর থেকে মাটি অপসারণ করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।