অবৈধ অকটেন মজুতে আগুন

ভ্রাম্যমান আদালতের জেল-জরিমানা

এফএনএস (এইচ এম জোবায়ের হোসাইন; ত্রিশাল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ৩ মে, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
ভ্রাম্যমান আদালতের জেল-জরিমানা

বহুতল ভবনের নিচতলায় অবৈধভাবে মজুত করা অকটেন-পেট্রোল থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মজুদকারী ব্যক্তিকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তাকে কারাদণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ফিলিং ষ্টেশনের ব্যবস্থাপককে অর্থদণ্ড দেন। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌর শহর এলাকায়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত সিদ্দিকী।

জানা গেছে, উপজেলার পৌর শহরের দরিরামপুর ফিসারী রোড এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার সিঁড়ির নিচে জ্বালানি তেল মজুত করেছিলেন ভাড়াটিয়া মো. উমর ফারুক (৫১)। শনিবার (২ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে রাখা জ্বালানি তেলের একটি পাত্রে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও স্থানীয়দের চেষ্টায় তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় আবাসিক এলাকায় অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে জ্বালানি মজুতের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী উমর ফারুককে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে রাত ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসন পুলিশসহ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মজুতকৃত পেট্রোলের মাধ্যমে অগ্নি দুর্ঘটনার ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। তল্লাশিতে সিঁড়ির নিচে রাখা কন্টেইনার থেকে আরও প্রায় ৭০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত উমর ফারুক অভিযোগ স্বীকার করেন।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী লাইসেন্স ছাড়া জ্বালানি তেল মজুতের অপরাধে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। উমর ফারুক পাশের ইভা ফিলিং স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি বাসায় জ্বালানি তেল মজুত করে রাখতেন এবং পাম্পে তেল সংকট দেখা দিলে অতিরিক্ত দামে তা বিক্রি করতেন বলেও জানান উপজেলা প্রশাসন।

এ ঘটনায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যানবাহন ছাড়া, ফুয়েল কার্ড ব্যতিত খোলা পাত্রে জ্বালানি তেল বিক্রির দায়ে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ইভা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. আফজালকে ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে জ্বালানি তেল মজুত করা হয়েছিল। সেখান থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও তারা এর বিচার দাবি করেন। পরে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে