দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাসের অচলাবস্থার পর দেশে পৌঁছেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নতুন চালান, ফলে আবারও উৎপাদনে ফিরতে যাচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজটি বুধবার (৬ মে) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই চালান ঘিরে দেশের জ্বালানি খাতে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রিফাইনারি সূত্র জানায়, ক্রুড অয়েলের তীব্র সংকটের কারণে ১২ এপ্রিল মূল প্ল্যান্টের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চ ও এপ্রিলে কোনো তেলের জাহাজ দেশে আসেনি। এতে দ্রুত মজুত ফুরিয়ে যায় এবং বাধ্য হয়ে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়।
বন্দর সূত্র বলছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথে পরিবাহিত হয়, বাংলাদেশও এর ওপর নির্ভরশীল। সর্বশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ক্রুড অয়েলের চালান আসে। এরপর নানা চেষ্টা করেও নতুন চালান আনা সম্ভব হয়নি। এমনকি ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামের একটি জাহাজ তেল বোঝাই অবস্থায় সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে।
পরে বিকল্প রুট ব্যবহার করে ২১ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, “জাহাজটি কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর ছোট জাহাজের মাধ্যমে তেল খালাস করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নেওয়া হবে।”
রিফাইনারির কর্মকর্তারা বলছেন, তেল খালাস শেষে ধাপে ধাপে উৎপাদন শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৭ মে) অথবা শুক্রবার (৮ মে) থেকে প্ল্যান্ট চালু করা সম্ভব হতে পারে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপমহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান বলেন, “ক্রুড অয়েল ট্যাংকে পৌঁছালে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা হবে। বর্তমানে চারটি ইউনিটের মধ্যে তিনটিই বন্ধ রয়েছে।”
এদিকে রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, “জাহাজ পৌঁছানোর পরপরই তেল শোধনের কাজ শুরু হবে। উৎপাদনও দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানায়, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এই রিফাইনারি থেকে আসে। প্রতিদিন এখানে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ ডিজেল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উৎপাদন সচল রাখতে আরও ২ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার (১০ মে) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে নতুন একটি জাহাজে তেল লোড করা হবে, যা মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চালান দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বৈশ্বিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সরবরাহে আবারও চাপ তৈরি হতে পারে।