ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে শঙ্কার অবসান, দেশে পর্যাপ্ত মজুতের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৬ মে, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে শঙ্কার অবসান, দেশে পর্যাপ্ত মজুতের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দেশে কোনো ধরনের ভ্যাকসিনের ঘাটতি নেই এবং আগামী এক বছরের জন্য পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, শিশু ও নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চলমান সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করতে আগামী ১৫ মাসের ভ্যাকসিন আগাম সংগ্রহের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনিসেফের নতুন ভ্যাকসিন চালান গ্রহণের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, আগামী ১০ মের মধ্যে আরও বড় একটি চালানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউনিসেফের মাধ্যমে ১০ ধরনের ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে, যার মোট পরিমাণ ৯৫ মিলিয়ন ডোজ। এর জন্য ইতোমধ্যে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন চালানে এমআর, টিডি, বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন কেনার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে আবারও ইউনিসেফের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এতে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য হয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচিতে বড় সাফল্য
চলমান হাম ও রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ এর অগ্রগতি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। ৫ মে পর্যন্ত এক কোটি ৬৮ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৩ শতাংশ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এই কর্মসূচি এখন বিশ্বে একটি সফল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। গ্যাভি আমাদের ভ্যাকসিন হিরো হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।” তার ভাষায়, এই টিকাদান কার্যক্রম প্রতিবছর প্রায় এক লাখ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ এবং লাখ লাখ রোগ কমাতে সহায়তা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিক টিকা কার্যক্রম বজায় থাকলে শিশু মৃত্যুহার আরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। ইউনিসেফ ও গ্যাভিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

বাফার স্টক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে। নতুন চালান যুক্ত হলে আগামী এক বছরের জন্য কোনো ধরনের ভ্যাকসিন সংকট থাকবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী ১৫ মাসের মধ্যে তিন মাসের বাফার স্টক রাখা হবে, যাতে কোনো পরিস্থিতিতেই সরবরাহ ব্যাহত না হয়।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে টিকাদান কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত ক্যাম্পেইন, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা এবং মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিক করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর
মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের কিছু সিদ্ধান্তের কারণে টিকাদান কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমানে তা পুনর্গঠন করা হয়েছে। তার ভাষায়, “সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত ইউনিসেফের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।”

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুদের এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হাম ও রুবেলার মতো মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে